পরমাণু আলোচনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা, উত্তেজনা চরমে
পরমাণু আলোচনার পর ইরানে হামলা, উত্তেজনা চরমে

পরমাণু আলোচনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা

জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ পরমাণু আলোচনার মাত্র একদিন পরেই ইরানে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ওমানে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষ প্রকাশের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি ঘোর পাল্টায়।

আলোচনা ও হামলার সময়সীমার নাটকীয় মিল

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একটি নজিরবিহীন চুক্তি এখন হাতের নাগালে বলে উল্লেখ করলেও ট্রাম্পের মতে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানকে পুরোপুরি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগে বাধ্য করতে চাইলেও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের এই কর্মসূচি কেবল বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য।

মজার ব্যাপার হলো, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে যে আলোচনার টেবিলের মাঝখানে থাকা অবস্থায় দেশটিতে হামলার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে গত বছরের জুনে ইসরাইলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলা চালানো হয়েছিল।

ইরানের প্রতিশোধের প্রস্তুতি ও খামেনির হুঁশিয়ারি

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নতুন করে এই হামলার পর তেহরান এখন প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

তিনি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকেও মাঝে মাঝে এমন জোরে আঘাত করা যায় যে তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারে না। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র যা ওই জাহাজকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম।

মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধের উত্তেজনা

ইসরাইলের রোরিং লায়ন অভিযানের ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন চরম যুদ্ধের উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

এই সংকটময় মুহূর্তে কূটনীতির ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে গেছে। পরমাণু আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হওয়া আশা-আকাঙ্ক্ষা হামলার এই ঘটনায় ধূলিসাৎ হয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।

  • জেনেভায় পরমাণু আলোচনার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অসন্তোষ ও ইরানের ইতিবাচক ইঙ্গিতের বৈপরীত্য
  • ইরানের প্রতিশোধের প্রস্তুতি ও সর্বোচ্চ নেতার হুঁশিয়ারি
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ সতর্কতা

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে শান্তি আলোচনা ও সামরিক সংঘাতের মধ্যে পার্থক্য ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। সূত্র: সিএনএন।