ইরাক ও ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধ: ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়া
ইরাক ও ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধ: ইরানে হামলার প্রভাব

ইরানে হামলার পর ইরাক ও ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধ

প্রতিবেশী ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর ইরাক ও ইসরাইল তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে শুরু হওয়া এই হামলার জেরে দুই দেশই নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইরাকের আকাশসীমা বন্ধের বিস্তারিত

ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানে হামলার পর তারা দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরাইল জানায়, ইরাকের উত্তরাঞ্চলের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এই পদক্ষেপটি ইরাকের প্রতিবেশী দেশে চলমান সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধ ও যাত্রীদের জন্য নির্দেশনা

এদিকে, ইসরাইলও ইরানে হামলার পর তার আকাশসীমা বন্ধ করেছে এবং সব ধরনের বেসামরিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জনসাধারণকে বিমানবন্দরে না আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে:

  • বিদেশে থাকা যাত্রীদের আকাশসীমা পুনরায় চালু হওয়ার পরে ফ্লাইটের সময়সূচি সম্পর্কে মিডিয়া এবং তাদের বিমান সংস্থার মাধ্যমে আপডেট থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
  • বিদেশে থাকা ইসরাইলিদের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশাবলী এবং সুপারিশ অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
  • নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলে, আকাশসীমা পুনরায় চালু করা হবে এবং ইসরাইলে আসা ও যাওয়ার ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হবে।
  • নতুন ফ্লাইটের বিষয়ে ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিশ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

হামলার প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই যৌথ হামলা আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরাক ও ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্তটি এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা তুলে ধরছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপগুলি সংঘাতের বিস্তার রোধ এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

বর্তমানে, ইরাক ও ইসরাইলের বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রী চলাচল স্থগিত রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবে বলে জানিয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভ্রমণ খাতের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।