আফগানিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের তিন অঞ্চলে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ
আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকিস্তান তার তিনটি অঞ্চলে ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার ওড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ, সিন্ধু প্রদেশ এবং গিলগিট বালতিস্তান অঞ্চল। শুক্রবার থেকে কার্যকর এই পদক্ষেপটি সরাসরি সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা
খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক সরকার শুক্রবার পুরো প্রদেশে উন্মুক্ত স্থানে ড্রোন ওড়ানোর ওপর ‘অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করেছে। প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে, কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে:
- হল বা প্যান্ডেলের মতো অভ্যন্তরীণ জায়গায় ছোট ড্রোনের মাধ্যমে ভিডিও করা অনুমোদিত।
- গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ড্রোন ব্যবহার এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রদেশটির বিভিন্ন সরকারি ভবন ও স্থাপনায়, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে, কোয়াডকপ্টার বা মনুষ্যবিহীন আকাশযানের (ইউএভি) সাহায্যে দূরনিয়ন্ত্রিত হামলার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ড্রোনের যেকোনো ব্যবহার নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে’ বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সিন্ধু প্রদেশে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা
এদিকে, সিন্ধু প্রদেশের সরকারও বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে খোলা জায়গায় ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার ওড়ানোর ওপর ‘অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করেছে। প্রাদেশিক সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী ৬০ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ড্রোন ব্যবহার এখানেও ব্যতিক্রম হিসেবে অনুমোদিত থাকবে।
গিলগিট বালতিস্তানে পুলিশের ঘোষণা
গিলগিট বালতিস্তান অঞ্চলে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ করে অঞ্চলটির পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের পেশাগত প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা শঙ্কার প্রেক্ষাপট
এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ও সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মতো অঞ্চলে ড্রোন-ভিত্তিক হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জননিরাপত্তা ও সরকারি অবকাঠামোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ড্রোনের অপব্যবহার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোটের উপর, পাকিস্তানের এই তিন অঞ্চলে ড্রোন নিষেধাজ্ঞা একটি জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আফগানিস্তান সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
