ইরানি হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি নির্দেশ: নাগরিকদের ইসরাইল ত্যাগ করুন
ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইসরাইল ত্যাগের জরুরি নির্দেশ দিয়েছে। শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তা জারি করে। একই সঙ্গে আপাতত ইসরাইলে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা ও ভ্রমণ পরামর্শ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকা অবস্থাতেই নাগরিকদের ইসরাইল ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। এই নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও প্রযোজ্য, যাদের দ্রুত দেশ ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি একটি ইমেইলের মাধ্যমে স্টাফদের জানান, যে কোনো দেশের ফ্লাইট পাওয়া গেলে সেটির টিকিট কেটে আগে ইসরাইল ত্যাগ করতে হবে, পরে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ও সামরিক প্রস্তুতি
গতকাল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। তবে আগামী সপ্তাহে আবারও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দুটি রণতরীসহ প্রায় এক ডজন যুদ্ধজাহাজ এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছেন। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, আলোচনা ভেস্তে গেলে তিনি সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন, যা অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
পারমাণবিক ইস্যু ও ইরানের অবস্থান
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। এমনকি দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলার কথাও বলেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন কোনো চুক্তি হলে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে ইরান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাবেই অনড় রয়েছে, যা আলোচনাকে জটিল করে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরাকের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরানের পক্ষে লড়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নির্দেশনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির নাজুকতা তুলে ধরছে।
