পাকিস্তানি বিমান হামলায় আফগানিস্তানের তিন শহরে তালেবান যোদ্ধা নিহত, স্থানীয়দের আতঙ্ক
পাকিস্তানি হামলায় আফগানিস্তানে তালেবান নিহত, স্থানীয়দের আতঙ্ক

পাকিস্তানি বিমান হামলায় আফগানিস্তানের তিন শহরে তালেবান যোদ্ধা নিহত, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া শহরে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানি বাহিনী অতর্কিতে বিমান হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তান সরকার এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তান দাবি করেছে যে তাদের এই হামলায় কমপক্ষে ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং দুই শতাধিকেরও বেশি আহত হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা

কাবুলের দাশতি বারচি এলাকার এক বাসিন্দা, যিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক, বলেন যে হামলার সময় একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণে তার বাড়ি কেঁপে ওঠে। তিনি জানান, "শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম এটা ভূমিকম্প, কারণ কয়েক দিন আগে কাবুলে ভূমিকম্প হয়েছিল। তারপরই আমরা প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনি।" এই বিস্ফোরণের পর দাশতি বারচির মানুষজন দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন এবং পুরো রাত জেগে থাকেন। তিনি আরও যোগ করেন, "এরপর আর কেউ ঘুমায়নি। সবাই ভয় পাচ্ছিল।"

যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি ও লক্ষ্যবস্তু এলাকা

বিস্ফোরণের অল্প কিছুক্ষণ পরেই কাবুলের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায়। ওই বাসিন্দা বলেন, "যখন আমরা মাথার ওপর জেট উড়তে দেখলাম, বুঝতে পারলাম এগুলো পাকিস্তানের সামরিক বিমান।" তিনি উল্লেখ করেন যে হামলার লক্ষ্যবস্তু এলাকা তার বাড়ি থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তার পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে স্ত্রী ও বাবা-মা, এই ঘটনায় অত্যন্ত ভয় পেয়েছেন এবং তারা সবাই সারা রাত জেগে কাটিয়েছেন।

হামলার প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানি বাহিনীর এই হামলা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তালেবান যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত এই অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। আফগানিস্তানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কেড়েছে।