গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত, আহত কয়েকজন
গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় পাঁচ পুলিশ নিহত

গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত, আহত কয়েকজন

গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে মধ্য গাজার বুরেজ শরণার্থী শিবির এবং দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় পৃথক দুটি পুলিশ পোস্টে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। গাজায় চলমান দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বিধ্বংসী অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

খান ইউনিসে তিনজনের মৃত্যু ও আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক

খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আল-মাওয়াসি এলাকার আল-মাসলাখ মোড়ে একটি পুলিশ চেকপয়েন্টে ইসরায়েলি সামরিক হামলার পর তিনজনের মরদেহ এবং বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই এলাকাটি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুরেজ শরণার্থী শিবিরে আরও দুজন নিহত

অন্যদিকে, মধ্য গাজার বুরেজ শরণার্থী শিবিরের প্রবেশমুখে একটি পুলিশ পোস্টে একই ধরনের ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই হামলার ফলে গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

হামাসের তীব্র নিন্দা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ

হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েল গত ১০ অক্টোবর থেকে প্রায় প্রতিদিন তথাকথিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। হামাস মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, "এই ক্রমবর্ধমান মৃত্যু ইসরায়েলের মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং শান্তি পরিষদের ভূমিকাকে অস্বীকার করারই প্রতিফলন।" তিনি আরও যোগ করেন, "যুদ্ধের রূপ বা পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন এলেও ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তার নির্মূল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আশ্বাস প্রদানকারী রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধ বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।"

এই ঘটনাটি গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতের একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফ থেকে শান্তি প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়ে গেছে।