পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষ, উভয় পক্ষের হতাহতের দাবি
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় তালেবান যোদ্ধাদের হামলায় দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত আটটার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয় বলে আফগান তালেবান দাবি করেছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বাহিনী ‘বিনা উসকানিতে’ গুলি চালানোর জবাব দিয়েছে।
উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির দাবি
আফগান তালেবান জানিয়েছে, তারা এ সপ্তাহের শুরুর দিকে পাকিস্তানের হামলার জবাবে ‘বড় আকারের’ প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করেছে। তালেবানের সামরিক মুখপাত্র মৌলভি ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদী দাবি করেন, এই অভিযানে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ অভিযানে ‘অনেক’ পাকিস্তানি সেনা নিহত ও বন্দী হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি আফগান হামলায় পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জাবিউল্লাহ মুজাহিদের দাবি করা ১৫টি সামরিক চৌকি দখলের খবরও নাকচ করে দেন। জাইদি বলেন, ‘সব আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের উপর প্রভাব
পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শুনেছেন। নিরাপত্তার কারণে তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। এই সংঘর্ষের ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পূর্ববর্তী হামলার প্রেক্ষাপট
এর আগে গত রোববার আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের হামলা চালানো হয়। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশন জানিয়েছিল, এতে ১৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। তবে ইসলামাবাদ ও কাবুল মৃত্যুসংখ্যা নিয়ে পৃথক দাবি করেছে:
- ইসলামাবাদের দাবি: ওই হামলায় ৮০ জনের বেশি সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
- কাবুলের দাবি: ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও প্রতিশোধমূলক অভিযানের দাবি করছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
