পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তীব্র সংঘাত: বিমান হামলায় গোলাবারুদ ডিপো ধ্বংস, তালেবান সদস্য নিহত
পাক-আফগান সীমান্তে তীব্র সংঘাত, বিমান হামলায় ডিপো ধ্বংস

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তীব্র সংঘাত: বিমান হামলায় গোলাবারুদ ডিপো ধ্বংস

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান নানগারহার প্রদেশে হামলা চালিয়ে একটি বড় গোলাবারুদ ডিপো সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। এই ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের মুখে পড়েছে।

সরকারি দাবি: তালেবান সদস্য নিহত ও আহত

পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, সীমান্তে 'উসকানিমূলক' হামলার জবাবে পাল্টা অভিযানে আফগান তালেবান সরকারের ১৩৩ জন সদস্য নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য, তালেবান বাহিনীর সীমান্ত লঙ্ঘনের পর পাকিস্তানি বাহিনী 'অপারেশন গজব-লিল-হক' শুরু করে।

রাত ২টা পর্যন্ত পরিস্থিতির আপডেট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, আফগান দিক থেকে 'উসকানিমূলক হামলার' জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী একাধিক পাল্টা আঘাত হেনেছে। তার দাবি অনুযায়ী:

  • ৭২ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত, ১২০ জনের বেশি আহত।
  • ১৬টি তালেবান পোস্ট ধ্বংস, ৭টি দখল।
  • একটি বড় গোলাবারুদ ডিপো, একটি ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তর ও একটি সেক্টর হেডকোয়ার্টার লক্ষ্যবস্তু।
  • ৩৬টির বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস।

পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি: 'তাৎক্ষণিক ও কার্যকর' জবাব

মোশাররফ জাইদি সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে কোনো আগ্রাসনের জবাব 'তাৎক্ষণিক ও কার্যকর'ভাবে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আরও পাল্টা হামলা চালানো হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জাইদি দাবি করেন, পাকিস্তানের কোনো পোস্ট দখল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কোনো পাকিস্তানি সেনা নিহত বা আটকও হননি।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে যেসব দাবি ছড়ানো হচ্ছে, তা 'ভারতের প্রক্সি'দের অপপ্রচার। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে একাধিকবার গোলাগুলি ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে।

উভয় পক্ষের অভিযোগ ও অস্বীকার

ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার জবাবে সীমান্তপারের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানায়।

সীমান্তের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।