উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ভালোভাবে চলতে’ পারে: কিম জং উনের শর্ত
উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক: কিম জং উনের শর্ত

উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কিম জং উনের নতুন বার্তা

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন একটি বিরল বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ভালোভাবে চলার’ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও তাদের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দিতে হবে।

পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধির ইচ্ছা

কিম জং উন পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত একটি পার্টি কংগ্রেসে বলেন, তার দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের কার্যক্ষমতা ও পরিধি বাড়ানোর দৃঢ় ইচ্ছা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি আহ্বান জানান যেন তারা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিকে সম্মান করে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি অস্বাভাবিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের শর্ত

কিম জং উন ব্যাখ্যা করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়া ভালোভাবে চলতে পারে, কিন্তু এটি শুধুমাত্র তখনই সম্ভব যখন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র গ্রহণ করে এবং আমাদের অস্তিত্ব মেনে নেয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বর্তমান পারমাণবিক অবস্থানকে সংবিধান অনুযায়ী সম্মান জানায় এবং তাদের শত্রুতা নীতি প্রত্যাহার করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভালোভাবে চলতে কোনো বাধা থাকবে না। আমাদের ভবিষ্যত সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবের উপর নির্ভরশীল।’

দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘সর্বাধিক শত্রু’ আখ্যা

কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি তার মনোভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘সর্বাধিক শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। কিম স্পষ্টভাবে বলেন, ‘যতদিন দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের সাথে সীমান্তের ভূ-রাজনৈতিক শর্তগুলো থেকে বের হতে পারবে না, ততদিন তাদের জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ হলো আমাদের সম্পর্কিত সমস্ত কিছু ত্যাগ করে আমাদের থেকে দূরে থাকা।’

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ

একজন বিশ্লেষক এএফপিকে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন যে, পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়াকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দিয়ে এককভাবে এগোতে চায়। এই অবস্থান ট্রাম্পের আগামী এপ্রিল মাসে চীনে সফরের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার এই কৌশলগত ঘোষণা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। কিম জং উনের বক্তব্য পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি শর্তসাপেক্ষ, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি শত্রুতার মনোভাব অপরিবর্তিত রয়েছে।