উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের হুমকি: দক্ষিণ কোরিয়াকে 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' করতে সক্ষম
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তার সামরিক বাহিনী দক্ষিণ প্রতিবেশীকে 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' করার ক্ষমতা রাখে। তিনি একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যত আলোচনা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের 'শত্রুতাপূর্ণ' নীতি পরিহারের ওপর।
কিমের বক্তব্য ও শর্তাবলি
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার (ডব্লিউপিকে) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে কিম জং উন বলেন, 'যদি ওয়াশিংটন আমাদের দেশের সংবিধানে বর্ণিত মর্যাদাকে সম্মান করে এবং তাদের শত্রুতাপূর্ণ নীতি প্রত্যাহার করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক না থাকার কোনো কারণ নেই।'
উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএর বৃহস্পতিবারের (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম তার পারমাণবিক শক্তিচালিত সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে আন্তঃমহাদেশীয় (আইসিবিএম) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর জোর দিয়েছেন, যা পানির নিচ থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়।
পারমাণবিক অস্ত্রের ভূমিকা ও উন্নয়ন
কিম আরও উল্লেখ করেছেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির দ্রুত উন্নয়ন দেশটিকে একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে 'স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত' করেছে। তিনি বলেন, 'পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে আমাদের অবস্থান শত্রুদের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।'
তিনি দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রকে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার 'নিশ্চয়তা এবং রক্ষাকবচ' হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়া তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম এমন কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র, যেমন আর্টিলারি এবং স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন।
সামরিক কুচকাওয়াজ ও উত্তরসূরি জল্পনা
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ নিউজ জানায়, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির এই কংগ্রেস বুধবার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের রাস্তায় একটি বড় সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে শেষ হয়। সম্মেলনে সারাদেশ থেকে প্রায় ৫ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের কুচকাওয়াজের ছবিতে দেখা গেছে, উজ্জ্বল আলোকসজ্জিত কিম ইল সুং স্কয়ারে একদল সৈন্য মার্চ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিম এবং তার মেয়ে কিম জু আয়ে অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে তা দেখছিলেন। কুচকাওয়াজে কিছু সৈন্য ছদ্মবেশী পোশাক এবং বিশেষ যুদ্ধের সরঞ্জাম পরে অংশ নিয়েছিলেন এবং একঝাঁক যুদ্ধবিমান আকাশসীমা প্রদক্ষিণ করে।
কিম জু আয়ের উপস্থিতি আবার এই জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে যে, তাকে কিমের উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে কিনা। তবে কিমের হুমকির জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া কোনো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে কিনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
