পরমাণু চুক্তি নিয়ে তেহরান-ওয়াশিংটনের তৃতীয় দফার বৈঠক, ট্রাম্পের হামলার হুমকি
পরমাণু চুক্তিতে তৃতীয় দফার বৈঠক, ট্রাম্পের হামলার হুমকি

পরমাণু চুক্তি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান-ওয়াশিংটনের তৃতীয় দফার বৈঠক শুরু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর সরাসরি হুমকি দিয়েছেন, যদি পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার আলোচনায় বসেছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠককে অনেক বিশ্লেষক সংঘাত এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে মূল্যায়ন করছেন, যদিও চুক্তির সম্ভাবনা এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

ট্রাম্পের যুদ্ধাত্মক বক্তব্য ও হুমকির পটভূমি

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনে স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও তেহরানের প্রতি কঠোর সুরে কথা বলেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘কূটনীতির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা আমার পছন্দ। কিন্তু আমি কখনই বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র ধারণ করতে দেব না।’ তবে নতুন আলোচনায় ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট দাবি বা সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি, যা অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের অবস্থান ও আলোচনার সম্ভাবনা

অন্যদিকে, ইরান তাদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু সূত্রমতে, এবারের বৈঠকে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছুটা ছাড় দিতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে জেনেভার আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে এবং ইরানও অঙ্গীকার করেছে যে যেকোনো হামলার জবাবে তারা শক্তি প্রয়োগ করবে।

আলোচনার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

পাল্টাপাল্টি এসব হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেই দুই পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যদি চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তবে অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা ভাঙতে জেনেভা বৈঠকের ফলাফল অত্যন্ত নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।