উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তার সামরিক বাহিনী চাইলে দক্ষিণ কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি শর্ত আরোপ
কিম জং উন ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, কোনো বিষয়ে সংলাপ করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি ‘শত্রুতামূলক’ নীতি পরিত্যাগ করতে হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ওয়াশিংটন যদি ‘সংবিধানে বর্ণিত উত্তর কোরিয়ার বর্তমান অবস্থানকে সম্মান করে এবং শত্রুতামূলক নীতি প্রত্যাহার করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে না ওঠার কোনো কারণ নেই।’
ক্ষমতাসীন দলের বৈঠকে বক্তব্য
বুধবার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার (ডব্লিউপিকে) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে কিম জং উন এসব কথা বলেছেন। বৈঠকে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বৃদ্ধির আহ্বান
এছাড়াও বৃহস্পতিবার দেশটির সরকারি সংবাদসংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কিম জং উন তার পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে পানির নিচ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম আর্টিলারি ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
কিম জং উনের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অবস্থান কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এই ঘোষণা বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা চিন্তাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।
