ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, ইসরায়েলে পাঠানো হলো ১২টি যুদ্ধবিমান
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি

পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক শক্তি আরো বাড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ১২টি যুদ্ধবিমান ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ইতিমধ্যে সফলভাবে অবতরণও করেছে। এই পদক্ষেপটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত চরম পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।

মার্কিন সামরিক বিমানের ব্যাপক মোতায়েন

উন্মুক্ত উত্সভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন অঞ্চলে তিন শতাধিক মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন রয়েছে। এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর। পেন্টাগনের তরফ থেকে ইসরায়েলে প্রায় এক ডজন এফ-২২ র্যাপ্টর যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে, যা আগে ব্রিটেনের একটি বিমানঘাঁটিতে সাময়িকভাবে রাখা ছিল।

পারমাণবিক চুক্তি ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনা

চলতি সপ্তাহেই পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে ফের এক দফা বৈঠকে বসার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। যদিও আলোচনা চলছে, কিন্তু সামরিক উত্তেজনা থামেনি। দুই দেশই একে অন্যকে হুঁশিয়ারি এবং পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। গত বছর ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে মার্কিন বাহিনী হামলা চালানোর সময় এই এফ-২২ র্যাপ্টর যুদ্ধবিমানগুলো তেহরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল, যা বর্তমান উত্তেজনার পটভূমি তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের হুমকি ও আন্তর্জাতিক সতর্কতা

ইতিমধ্যে ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সমূলে নির্মূল করা হবে, যদিও সমস্যার সমাধানে কূটনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমধ্যসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন।

এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, সার্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ সতর্কতা জারি করেছে। পশ্চিম এশিয়াসংলগ্ন সমুদ্রে আগে থেকেই নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে শুরু করে আমেরিকা, যা এখন ইসরায়েলে যুদ্ধবিমান পাঠানোর মাধ্যমে আরো স্পষ্ট হয়েছে।

সিএনএন ও আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সামরিক পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত সমাধানের পরিবর্তে আরো ঘনীভূত হতে পারে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।