ট্রাম্পের দাবি: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে সাড়ে তিন কোটি জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি
ট্রাম্পের দাবি: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ৩.৫ কোটি জীবন বাঁচিয়েছেন

ট্রাম্পের দাবি: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে সাড়ে তিন কোটি জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে, তার হস্তক্ষেপের ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থেমেছে এবং প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি এই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি ও ট্রাম্পের ভূমিকা

কংগ্রেস সদস্যদের সামনে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ প্রায় পারমাণবিক সংঘাতে রূপ নিতে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, "পাকিস্তান ও ভারত পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, আমার সম্পৃক্ততা না থাকলে ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ মারা যেত।" এই বক্তব্যে তিনি তার প্রশাসনের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

২০২৫ সালের সংঘাতের পটভূমি

ট্রাম্প যে সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন, তা শুরু হয় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহালগাম হামলার পর। ওই হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে অভিযান চালায় এবং পাকিস্তান পাল্টা জবাব দেয়। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে, তিনি বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক আরোপের হুমকি ব্যবহার করে দুই দেশকে উত্তেজনা না বাড়াতে রাজি করিয়েছেন।

ভারতের প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক

তবে নয়াদিল্লি ট্রাম্পের এই দাবি সমর্থন করেনি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ১০ মে ২০২৫-এ হওয়া যুদ্ধবিরতি ছিল ভারত ও পাকিস্তানের সরাসরি আলোচনার ফল, এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প ৮০ বারেরও বেশি দাবি করেছেন যে তিনিই এই সংঘাত থামিয়েছেন, কিন্তু তিনি সংঘাতকালে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন, যা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্পের হুমকি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

গত সপ্তাহে ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের বিরোধ না মেটালে তিনি বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করে দেবেন। তিনি বলেন, "আমি তাদের ফোন করে বলেছিলাম, তোমরা যদি এই সমস্যা সমাধান না করো, তাহলে আমি তোমাদের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি করব না… আর যদি লড়াই করো, তাহলে তোমাদের প্রত্যেক দেশের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে দেব।" এই হুমকি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের দাবি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যেখানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মার্কিন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে পারে।