মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে অন্তত ১২টি মার্কিন এফ-২২ স্টিলথ ফাইটার জেট ইসরায়েলের একটি বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কান এই খবর নিশ্চিত করেছে। এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি বিমান ঘাঁটিতে বিকেলে পৌঁছায়, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ
কান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ফাইটার জেট মোতায়েন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা সরাসরি ইরানের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত। এফ-২২ র্যাপটরকে বিশ্বের অন্যতম উন্নত এবং শক্তিশালী যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বর্তমানে কেবল মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছেই রয়েছে।
বিমানগুলোর বিশেষত্ব
এই বিমানগুলোর কয়েকটি বিশেষত্ব রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- শত্রুপক্ষের আকাশসীমায় অত্যন্ত গোপনে প্রবেশ করা
- উন্নত রাডার ব্যবস্থা ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়া
- শত্রুর রাডারে ধরা না পড়ে নিখুঁত হামলা চালানো
ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি ও উত্তেজনা
চলমান পারমাণবিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পরই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই তেহরানের ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টির নীতি বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মোতায়েনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন সরাসরি ইরানকে একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রের মাটিতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ফাইটার জেটের উপস্থিতি এই অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
