ইরানের ইসফাহানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: দুই পাইলট ও দুই দোকানি নিহত
ইরানের ইসফাহানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪

ইরানের ইসফাহানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: দুই পাইলট ও দুই দোকানি নিহত

ইরানের ইসফাহান প্রদেশের দোরচেহ শহরে একটি ফলের বাজারে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই সামরিক পাইলট ও দুই দোকানি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে সেনাবাহিনীর একটি বড় বিমানঘাঁটি রয়েছে, যা এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে। আর্মি এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার এক বিবৃতিতে নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন পাইলট কর্নেল হামিদ সারভাজাদ এবং কো-পাইলট মেজর মোজতবা কিয়ানি। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই তাতে আগুন ধরে যায়, যা বাজারের দোকানে কাজ করা দুজন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলেই প্রাণহানির শিকার করে তোলে।

তদন্ত ও বিচারিক পদক্ষেপ

আর্মি এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। স্থানীয় বিচার বিভাগীয় প্রধান আসাদুল্লাহ জাফারি এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। এই পদক্ষেপ দুর্ঘটনার গভীরতা ও দায়িত্ব নির্ধারণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানে সামরিক দুর্ঘটনার পটভূমি

এর আগে এক সপ্তাহের কম সময় আগে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হামাদান প্রদেশে একটি প্রশিক্ষণ মিশনের সময় বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। যুদ্ধবিমানটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পুরোনো এফ-৪ মডেলের ছিল বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তাদের পুরোনো সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজগুলো আধুনিকায়ন করতে পারছে না। এই সীমাবদ্ধতা দেশটিতে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ইরানের সামরিক বিমান বহরে পুরোনো মডেলের উড়োজাহাজের প্রাধান্য এবং রক্ষণাবেক্ষণের চ্যালেঞ্জগুলো বারবার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হলে ভবিষ্যতেও অনুরূপ ঘটনা ঘটতে পারে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নাগরিক জীবনে প্রভাব ফেলবে।