ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে হিজবুল্লাহ জড়ালে লেবাননে ভয়াবহ হামলা
ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি: হিজবুল্লাহ জড়ালে লেবাননে ভয়াবহ হামলা

ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে হিজবুল্লাহ জড়ালে লেবাননে ভয়াবহ হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধে যদি হিজবুল্লাহ অংশ নেয়, তবে লেবাননের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলায় দেশটির বিমানবন্দরসহ বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার লেবাননের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

পরোক্ষ বার্তা ও সরকারি প্রতিক্রিয়া

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা জানান, ইসরায়েলের এই বার্তাটি পরোক্ষভাবে লেবাননের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর বা লেবাননের প্রেসিডেন্সি থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এক সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহকে ‘নতুন কোনও অভিযানে’ না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাজা অভিযানে লেবাননের ওপর বড় ধরনের মাসুল চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা আশা করি, আমাদের আর নতুন কোনও অভিযানে টেনে নেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, এক বছর আগে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই নাওয়াফ সালামের সরকার ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

হিজবুল্লাহর অবস্থান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

হিজবুল্লাহর নতুন নেতা নাঈম কাসেম গত মাসে এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই উত্তজনায় তারা ‘নিরপেক্ষ’ নন। আমরা নিজেদের রক্ষায় বদ্ধপরিকর। আমরাই যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেব যে এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করব কি না। ১৯৮২ সালে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস হিজবুল্লাহ গঠন করে। ২০২৪ সালের এক যুদ্ধে ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর তৎকালীন নেতা হাসান নাসরাল্লাহসহ হাজার হাজার যোদ্ধা নিহত হন এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল নিয়মিতভাবে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ পুনরায় অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

এদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে গত সোমবার বৈরুত দূতাবাস থেকে জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক, যেখানে হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম এবং ইসরায়েলের হুমকি দেশটির স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতা এই সংকট নিরসনে কতটা কার্যকর হবে, তা এখন সময়ই বলবে।