ইরান চীন থেকে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল কিনছে, যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী মোতায়েনের পরিপ্রেক্ষিতে
ইরান চীন থেকে ক্রুজ মিসাইল কিনছে, যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী মোতায়েনের প্রেক্ষিতে

ইরান চীন থেকে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল কিনছে, যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী মোতায়েনের পরিপ্রেক্ষিতে

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের উত্তরে ইরান চীন থেকে জাহাজ বিধ্বংসী সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল সিএম-৩০২ কেনার চুক্তির শেষ ধাপে পৌঁছেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনাটি সম্পর্কে অবগত ছয় ব্যক্তির বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এই চুক্তি ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী মোতায়েন ও ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইরানে হামলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগরে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন করেছে। এমনকি বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ডকেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পানিসীমার কাছে নিয়ে আসা হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ভূমধ্যসাগরে চলে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দুই জাহাজ দিয়ে ইরানকে ধ্বংস করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।

তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে যে, এসব রণতরীকে ওয়াশিংটন যত ভয়ংকর করেই উপস্থাপন করুক না কেন, তাতে কিছুই যায় আসে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্প্রতি বলেছিলেন যে, মার্কিন রণতরীতে ভীত নয় তেহরান, কারণ তাদের কাছে এর চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র আছে, যা এসব দানবীয় রণতরীকে সাগরে ডুবিয়ে দিতে পারে।

সিএম-৩০২ ক্রুজ মিসাইলের শক্তি ও বৈশিষ্ট্য

সিএম-৩০২ চীনের তৈরি একটি সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, যা জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধের ময়দানে এই ক্ষেপণাস্ত্র অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এটি চীনের ওয়াইজে-১২ সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইলের একটি রপ্তানি সংস্করণ, যা দেশটি মিত্রদের কাছে বিক্রি করে থাকে।

এই মিসাইলের অপারেশনাল রেঞ্জ বা পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। এটি জাহাজ-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়ানোর জন্য নিচ দিয়ে এবং উচ্চ গতিতে ওড়ার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহারে বেশ সহজ, যা স্থল-ভিত্তিক ভ্রাম্যমান স্টেশন, জাহাজ ও বিমান থেকে নিক্ষেপ করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

দুই সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার পর সাগরে যেকোনো অস্ত্র বা রণতরী ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা বহুগুণে বেড়ে যাবে। সিএম-৩০২ সক্ষমতা ও দক্ষতার দিক দিয়েও বেশ এগিয়ে আছে, যা শত্রুপক্ষকে ভীত করতে পারে। মার্কিন সমরবিদরা ইরানের কাছে কী-এমন অস্ত্র আছে যা তাদের সামরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে, তা নিয়ে চিন্তিত।

এই গোপন চুক্তির তথ্য প্রকাশের পর পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মধ্যে ইরান কেন আমেরিকাকে ভয় পাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন জাগছে। ইরানের এই কৌশলগত পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা গতিশীলতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী।