মেক্সিকোর জালিস্কো রাজ্যে মাদক ক্যাপ্টেনের মৃত্যুতে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা, জনজীবন বিপর্যস্ত
মেক্সিকোর জালিস্কো রাজ্যে শক্তিশালী মাদক ক্যাপ্টেন নেমেসিও 'এল মেঞ্চো' ওসেগুয়েরার মৃত্যুর পর সপ্তাহান্তে ব্যাপক প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার কর্তৃপক্ষের সাথে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে ওসেগুয়েরার মৃত্যু ঘটে, যা জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
গুয়াদালাহারা শহরে আতঙ্ক ও বিপর্যয়
রাজধানী গুয়াদালাহারা শহরে স্কুল ও বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। গণপরিবহন আংশিকভাবে চালু হলেও বাসগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। শহরের রাস্তায় পুড়ে যানবাহনের ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে, যা সহিংসতার মাত্রা নির্দেশ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মারিয়া দে হেসুস গনজালেজ বলেন, "আমরা ভয়ে বাড়িতে আটকে ছিলাম। সুপারমার্কেটে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্যসামগ্রী কিনতে হচ্ছে।" অনেক দোকানে শপিং কার্ট ফুরিয়ে যাওয়ায় লোকজন লন্ড্রি ব্যাস্কেটে করে জিনিসপত্র বহন করছেন।
ট্যাক্সি চালক ও অবসরপ্রাপ্তদের অভিজ্ঞতা
ট্যাক্সি চালক মাতিয়াস মোরা বলেন, "তারা ফার্মেসি পুড়িয়ে দিয়েছে বলে আমি বের হতে ভয় পাচ্ছিলাম। কিন্তু খাদ্যের অভাবে কাজে বের হতে বাধ্য হয়েছি।" অবসরপ্রাপ্ত জুয়ান সোলার এএফপিকে জানান, "প্রায় সবকিছুই বন্ধ, যে কয়েকটি দোকান খোলা আছে সেখানে জিনিস কিনতে বিশাল লাইন।"
তাপালপা শহরের দিকে রাস্তায় এখনও কার্টেল সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে রেখেছে। এই শহরেই ওসেগুয়েরা তার শেষ লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
দেশব্যাপী সহিংসতা ও সেনা মোতায়েন
মেক্সিকোর ৩২টি রাজ্যের মধ্যে ২০টিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় ১০,০০০ সেনা সদস্য শান্তি ফিরিয়ে আনতে মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের প্রিয় রিসোর্ট শহর পুয়ের্তো ভায়ার্তাতেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সহিংসতার চূড়ান্ত পর্যায় কেটে গেছে এবং বেশিরভাগ রাস্তা অবরোধ শেষ হয়েছে।
ওসেগুয়েরার প্রভাব ও ভবিষ্যত শঙ্কা
৫৯ বছর বয়সী নেমেসিও 'এল মেঞ্চো' ওসেগুয়েরাকে কারাগারবন্দী জোয়াকিন 'এল চাপো' গুজমান ও ইসমাইল 'এল মায়ো' জামবাদার মতো নিষ্ঠুর মাদক ক্যাপ্টেনদের শেষ প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তিনি ২০০৯ সালে গঠিত জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন, যা মেক্সিকোর সবচেয়ে সহিংস অপরাধী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
ওসেগুয়েরার উপর অভিযান ও পরবর্তী সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, ৪৬ জন সন্দেহভাজন অপরাধী ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। যদিও তার মৃত্যুকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে নিউ জেনারেশন কার্টেলের মধ্যে "সরাসরি উত্তরাধিকারের অনুপস্থিতি" একটি ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও সহিংস সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এই সপ্তাহান্তের সহিংসতা সম্ভবত আগামী দিনের ঘটনাবলির একটি পূর্বাভাস মাত্র। মেক্সিকোর সাধারণ মানুষ এখনও আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন, ভবিষ্যতে কী হতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
