নেপালে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৯, আহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও
নেপালে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৯, আহত বিদেশি নাগরিক

নেপালে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিহত ১৯, আহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক

নেপালের পাহাড়ি সড়কে এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। মধ্যরাতের পরপরই পোখারা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে বাসটি প্রীতিবি হাইওয়ে থেকে খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বাসটি কাঠমান্ডুর পশ্চিমে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে বেনিঘাটের কাছে ত্রিশুলি নদীর তীরে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে থেমে যায়। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বাসে বহু যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে একজন ২৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছেন বলে ধাদিং জেলা পুলিশ কার্যালয় নিশ্চিত করেছে। এ পর্যন্ত মোট ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

আহত বিদেশি নাগরিকদের অবস্থা

আহতদের মধ্যে একজন চীনা নাগরিক রয়েছেন, যাকে কাঠমান্ডুর জাতীয় ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ২৭ বছর বয়সী এক নিউজিল্যান্ড নারী যাত্রী হালকা আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চীনা দূতাবাসের বরাতে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, আরেকজন চীনা নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সরকারি প্রশাসক মোহন প্রসাদ নেউপানে জানান, উদ্ধার কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ এখন দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য তদন্ত চালাচ্ছে।

নেপালে সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট

নেপালে বাস দুর্ঘটনা একটি নিয়মিত ঘটনা, যার পেছনে দুর্বল সড়ক অবস্থা ও যানবাহনের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণকে দায়ী করা হয়। হিমালয়ের এই পার্বত্য দেশটি পরিবহনের জন্য সংকীর্ণ ও বাঁকা সড়কের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

দ্রুতগামী ত্রিশুলি নদীর তীরেই বাসটি থেমেছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেই একই নদীতে ৬৫ যাত্রী বহনকারী দুটি বাস পড়ে যায়, যাদের বেশিরভাগই নিহত বা নিখোঁজ হন। এর মধ্যে একটি বাসের ধ্বংসাবশেষ বালির নিচে চাপা পড়ে থাকার পর এই বছরই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

এই দুর্ঘটনা নেপালের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং পাহাড়ি এলাকায় যাত্রী পরিবহনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করেছে।