কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: আহত নারী-শিশু, আবাসিক ভবনে আগুন
কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত নারী-শিশু

কিয়েভে রাশিয়ার তীব্র হামলা: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে আক্রান্ত রাজধানী

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আজ রোববার ভোরে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার চতুর্থ বর্ষপূর্তির মাত্র দুই দিন আগে নতুন করে এ আক্রমণ চালানো হয়েছে, যা স্থানীয় সময় ভোর চারটা নাগাদ শুরু হয়। কিয়েভে অবস্থানরত এএফপির সাংবাদিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিমান হামলার সতর্কতা জারির কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শোনা যায়, পরে দেশব্যাপী সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।

সামরিক প্রশাসনের জরুরি ঘোষণা ও আহতদের উদ্ধার

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, 'শত্রুপক্ষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাজধানীতে হামলা চালাচ্ছে'। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের অবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার জন্য জরুরি আহ্বান জানান। এদিকে, কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো টেলিগ্রামে লিখেছেন, শহরের উপকণ্ঠ থেকে একজন নারী ও একটি শিশুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যা হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে।

হামলার পটভূমি ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে কিয়েভ নিয়মিত রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মস্কো ইউক্রেনের জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর শীতকালীন হামলা তীব্র করেছে, এবং আজকের ঘটনা সেই ধারাবাহিকতার অংশ। হামলার সময় কিয়েভ শহরের তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ছিল, এবং শহরজুড়ে জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা মোতায়েন ছিলেন দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে।

ক্ষয়ক্ষতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

হামলার পর একটি আবাসিক ভবনের ছাদে আগুন লেগে যায়, যা স্থানীয় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। পোল্যান্ডের অপারেশনাল কমান্ড ভোরে রাশিয়ার বিমান ইউক্রেনের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে বলে শনাক্ত করেছে, এবং লিভিভ শহরে বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পর কিয়েভে এ ঘটনা ঘটে, যা আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার নির্দেশ করে। চার বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর বিধ্বস্ত হয়েছে, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, এবং উভয় পক্ষেই বিপুল প্রাণহানি ঘটেছে।

যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

মস্কো বর্তমানে ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখলে রেখেছে, কিন্তু রাশিয়াকেও ইউক্রেনের পাল্টা হামলা এবং ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এরপরও তারা পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসসহ বিভিন্ন এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার এএফপিকে বলেছেন, ইউক্রেন নিশ্চিতভাবে যুদ্ধে হারছে না এবং বিজয় এখনো তাদের লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রায় ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করেছে, যদিও এএফপি তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। যদি জেলেনস্কির দাবি সত্য হয়, তবে ২০২৩ সালের পর এটিই হবে কিয়েভের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি, যা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে।