সুদানের সীমান্তে উত্তেজনা: আরএসএফ দাবি করেছে আল-তিনা শহরের নিয়ন্ত্রণ
সুদানে আরএসএফ আল-তিনা শহর দখলের দাবি

সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। দেশটির প্যারামিলিটারি বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সস (আরএসএফ) শনিবার দাবি করেছে যে তারা চাদের সীমান্তবর্তী আল-তিনা শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। এই দাবির পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিবৃতি ও ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে আরএসএফ যোদ্ধাদের আল-তিনা জেলার ব্যানারের নিচে বিজয় উল্লাস করতে দেখা গেছে।

পূর্ববর্তী নিয়ন্ত্রণ ও বর্তমান দাবি

এই ঘটনার আগে আল-তিনা শহরটি সেনাবাহিনীর মিত্র যৌথ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরএসএফের সংঘাত ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু হয়েছে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনী এখনও এই দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে দারফুরের সেনাপন্থী গভর্নর মিনি মিনাওয়ি এই ঘটনাকে "নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে পুনরাবৃত্ত অপরাধমূলক আচরণ" বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি

সুদানের এই গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১১ মিলিয়ন মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের মতে, এই পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের সৃষ্টি করেছে। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত মিশন জানিয়েছে যে গত অক্টোবরে দারফুরের কেন্দ্রস্থল এল-ফাশারে আরএসএফের আক্রমণে "নির্যাতনের লক্ষণ" দেখা গেছে, যা গণহত্যার বৈশিষ্ট্য বহন করে।

সীমান্ত অঞ্চলে চলমান সংঘাত

এল-ফাশারের পতনের পর থেকে প্যারামিলিটারি বাহিনী চাদের সীমান্তের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়েছে। গত বছরের শেষদিকে এই সংঘাতে দুই চাদীয় সৈন্য নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এই অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

সুদানের গৃহযুদ্ধের এই নতুন অধ্যায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো সংকট মোকাবিলায় চেষ্টা চালালেও সহিংসতা ও অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।