ট্রাম্পের দাবি: ২০০% শুল্কের হুমকিতেই ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ এড়াল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও একটি বিতর্কিত দাবি তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন যে ২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত রোধে তিনি ২০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’ ইভেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই দাবি করেন এবং বলেন, ‘টাকার চেয়ে বড় কিছু নেই; যখন তারা দেখল অনেক টাকা লোকসান হবে, তখনই তারা যুদ্ধ থামাতে রাজি হলো।’
ট্রাম্পের বিব্রতকর অনুরোধ ও জীবন বাঁচানোর দাবি
এই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত ছিলেন, যাকে ট্রাম্প দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর অনুরোধ করে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে শাহবাজ শরিফ নিজেই তাকে বলেছেন, তার মধ্যস্থতা অন্তত ২৫ মিলিয়ন (আড়াই কোটি) মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। এছাড়া, তিনি যুদ্ধের সময় দুই দেশের অন্তত ১১টি দামি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন, যদিও এই সংখ্যা তিনি আগে ৫, ৮ ও ১০টি বলে পরিবর্তন করেছেন।
ভারতের সরাসরি প্রত্যাখ্যান
তবে ভারত ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতার দাবি শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে যে ২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর যে অস্ত্রবিরতি হয়েছিল, তা ছিল দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস-এর সরাসরি আলোচনার ফল, কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ নয়। ভারতীয় বিমান বাহিনীও ট্রাম্পের দেওয়া বিমান বিধ্বস্তের সংখ্যার সাথে একমত নয় এবং কোনো পাইলটের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি।
উত্তেজনার সূত্রপাত ও ট্রাম্পের যোগাযোগ
২০২৫ সালের ৭ মে ভারতের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পাকিস্তানে বিমান হামলা চালালে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন এবং তার চাপের মুখেই দুই দেশ যুদ্ধ থেকে সরে আসে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং ভারতীয় কূটনীতিকরা ট্রাম্পের এই অতিরঞ্জিত দাবিকে তার নিজস্ব প্রচারণার অংশ হিসেবেই দেখছেন। তারা মনে করেন, এই দাবিগুলো বাস্তবতার চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেশি প্রভাবিত।
সূত্র: এনডিটিভি।
