মিশরের পোর্ট সাইদে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ১৮ জনের মৃত্যু, আহত ৩
মিশরে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ১৮, আহত ৩

মিশরের পোর্ট সাইদে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ১৮ জনের মৃত্যু, আহত ৩

মিশরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পোর্ট সাইদ প্রদেশে একটি যাত্রীবাহী পিকআপ ও ট্রাকের মারাত্মক সংঘর্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও ৩ জন আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জজিরা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুর্ঘটনার সময় ও স্থান

মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র আল-আহরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে পোর্ট সাইদের দক্ষিণে অ্যাক্সিস হাইওয়েতে এ ভয়াবহ সংঘর্ষটি ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলে একটি পিকআপ দুটি বড় পণ্যবাহী ট্রাকের মাঝে পড়ে পিষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে পিকআপটির ধ্বংসাবশেষ রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

পিকআপে যাত্রীদের পরিচয়

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পিকআপটি উপকূলীয় পোর্ট সৈয়দ এলাকার মাছের খামারে কাজ করার জন্য স্থানীয় জেলেদের নিয়ে যাচ্ছিল। অনলাইনে পোস্ট করা দুর্ঘটনার পরের দৃশ্যগুলোতে দেখা গেছে, সড়কে পিকআপটি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে তৎপরতা চালাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা মাদবৌলি এই দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের আত্মীয়স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, তিনি পোর্ট সাইদ প্রদেশের গভর্নরের মাধ্যমে ঘটনাটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এবং নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন।

মিশরে সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট

মিশরে সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিয়মিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে প্রায়শই যানবাহনের ভয়াবহ সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, দ্রুতগতির যানবাহন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন এই দুর্ঘটনাগুলোর প্রধান কারণ। পোর্ট সাইদ প্রদেশের মতো উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ ধরার শিল্পের সাথে জড়িত কর্মীদের পরিবহনের সময় প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আহতদের চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই ঘটনা মিশরের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা আবারও উন্মোচিত করেছে।