ইরানে মার্কিন হামলা: ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ১০ দিনের মধ্যে, যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী প্রস্তুত
ইরানে মার্কিন হামলা: ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ১০ দিনের মধ্যে

ইরানে মার্কিন হামলা: ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ১০ দিনের মধ্যে, যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী প্রস্তুত

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মার্কিন নৌবাহিনী ইতোমধ্যেই তেহরানের সীমানার কাছে যুদ্ধবিমানবাহী একাধিক রণতরী মোতায়েন করেছে, যার সঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু ডেস্ট্রয়ার জাহাজ। এছাড়াও, এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ অত্যাধুনিক স্টিলথ যুদ্ধবিমানসহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরব সাগর ও পারস্য উপসাগর এলাকায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আক্রমণ চালানোর জন্য এখন শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের ঘোষণা: ইরান বিষয়ে সিদ্ধান্ত ১০ দিনের মধ্যে

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে গাজা পুনর্গঠন নিয়ে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ এর প্রথম বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার ফলাফল সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যে জানা যাবে। ট্রাম্প ওই অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এই সময়সীমার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড বৈঠক ও অনুদান ঘোষণা

ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিস' বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে উদ্বোধনী বৈঠকে মিলিত হয়েছে, যেখানে গাজার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপের ওপর আলোচনা করা হচ্ছে। যদিও অন্তত ৪০টি দেশের প্রতিনিধিদের এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্রদের সেখানে অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র 'বোর্ড অব পিস'-এ ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে, যাকে তিনি ‘যুদ্ধের খরচের তুলনায়’ সামান্য বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও জানান, বোর্ড অব পিসের অন্য সদস্যরা মোট প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে এবং বেশ কয়েকটি দেশ গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সৈন্য ও পুলিশ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি তীব্র

মার্কিন কর্মকর্তা ও পাবলিক ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধজাহাজ, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সাবমেরিনসহ বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অস্ত্রশস্ত্র পাঠাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প যদি ইরানের ওপর সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তবে এই পদক্ষেপগুলো তারই প্রস্তুতি হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর মোতায়েনকৃত রণতরী ও যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের কৌশলগত অবস্থানের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে, যা যেকোনো সময় হামলা চালানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ট্রাম্পের ১০ দিনের সময়সীমার ঘোষণা এবং মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির সমন্বয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরান বিষয়ে মার্কিন নীতির দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।