মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ বিমানবাহিনী সমাবেশ, ইরান হামলার অপেক্ষায়
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে তাদের সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় সমাবেশ ঘটিয়েছে, যা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর প্রথমবারের মতো ঘটছে। এই বিশাল বহরে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ ও এফ-২২ র্যাপ্টর স্টিলথ যুদ্ধবিমান, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ধ্বংসের লক্ষ্যে প্রেরিত হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী তেহরানের ওপর যেকোনো সময় আঘাত হানতে প্রস্তুত, এবং এখন শুধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে।
হোয়াইট হাউসে চুলচেরা বিশ্লেষণ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে হামলা চালাবেন কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউসে চলছে গভীর বিশ্লেষণ, যেখানে আলোচনা হচ্ছে যে হামলার লক্ষ্য শুধু পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ধ্বংস করা হবে, নাকি তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো হবে। এই সিদ্ধান্তটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিমানবাহিনীর কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি ও সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান নিয়েছে। এই বহরে রয়েছে এফ-৩৫, এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-২২ র্যাপ্টরের মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। নৌবাহিনীও পিছিয়ে নেই; তারা মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ১৩টি জাহাজ মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এবং একঝাঁক ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও সীমিত অভিযান
বর্তমান প্রস্তুতি শক্তিশালী হলেও ১৯৯১ বা ২০০৩ সালের তুলনায় এটি সীমিত। তবে প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে অল্পসংখ্যক যুদ্ধবিমান দিয়েও এখন অনেক বেশি নিখুঁত ও বিধ্বংসী হামলা চালানো সম্ভব। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সাজানো এই বহর দিয়ে ইরানের ওপর কয়েক সপ্তাহব্যাপী টানা বিমান হামলা চালানো সম্ভব। তবে এবারের চ্যালেঞ্জ হলো, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মার্কিন হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে অনুমতি দেয়নি, যা অভিযানের পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে।
ইরানের পাল্টা হুমকি ও আলোচনা
সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেই জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনো রয়েছে। ইরানও চুপ করে বসে নেই; মার্কিন হামলার জবাবে তেহরান তাদের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্রভান্ডার ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার অচল করে দিতে ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও ইরানের হাতে রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী সপ্তাহান্তেই হামলার জন্য প্রস্তুত থাকলেও ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই অভিযানের ভালো-মন্দ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। এই সিদ্ধান্তটি কেবল সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।
