ইরানে নতুন মার্কিন হামলার ভয়াবহ পরিণতির সতর্কবার্তা দিলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ
ইরানে মার্কিন হামলার ভয়াবহ পরিণতির সতর্কবার্তা ল্যাভরভের

ইরানে নতুন মার্কিন হামলার ভয়াবহ পরিণতির সতর্কবার্তা দিলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে নতুন কোনো মার্কিন হামলা গুরুতর ও ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। সৌদি আরবের আল-আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। খবরটি রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

ল্যাভরভ ইরানকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি অনুসরণ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধৈর্য ধরে সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "এর পরিণতি ভালো হবে না।" আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইতোমধ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। সেখান থেকে আমরা অনুমান করতে পারি, এ ঘটনায় পারমাণবিক দুর্ঘটনার প্রকৃত ঝুঁকি ছিল।

পরোক্ষ আলোচনা ও মধ্যস্থতা

জানা যায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান নতুন সংকট এড়াতে সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। এই আলোচনায় ওমান মধ্যস্থতা করছে। বুধবার এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জেনিভায় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অচলাবস্থা কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে ইরান একটি লিখিত প্রস্তাব দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়া

ল্যাভরভ আরও বলেন, "আমি সতর্কভাবে ওই অঞ্চলের আরব দেশগুলোর, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছিলাম। তাদের কেউ চায় না উত্তেজনা বাড়ুক। প্রত্যেকে বুঝতে পারছে এটা আগুন নিয়ে খেলা।" তিনি সতর্ক করেছেন, উত্তেজনা বাড়তে থাকলে গত কয়েক বছরে যে ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো হয়েছে সেগুলো অকার্যকর হয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবসহ নিকটবর্তী দেশগুলোর সম্পর্কের উন্নতিও অন্তর্ভুক্ত।

মার্কিন অবস্থান ও ইরানের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করুক। ইরান ওয়াশিংটনের এ দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মার্কিন কর্মকর্তা আরও জানান, বুধবার হোয়াইট হাউজে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠক করেছেন এবং সেখানে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য নির্ধারিত সব মার্কিন সামরিক বাহিনী মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যাবে।

আরব দেশগুলোর ভূমিকা ও রাশিয়ার অবস্থান

ল্যাভরভ জানিয়েছেন, আরব দেশগুলো স্পষ্টতই সংযমের আহ্বান জানিয়ে ওয়াশিংটনে সংকেত পাঠাচ্ছে। তারা এমন একটি চুক্তির সন্ধান করতে বলেছে যা ইরানের আইনগত অধিকার লঙ্ঘন করবে না এবং নিশ্চিত করবে যে ইরানের একটি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি আছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের নেতাদের নিয়মিত, ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। ল্যাভরভ বলেন, "আর আমাদের সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই যে ইরান আন্তরিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি পালনের ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান করতে চায়।"

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন জেনিভায় চলমান আলোচনার দিকে। ল্যাভরভের সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।