রমজানে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধ
পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে রমজান মাসজুড়ে সাপ্তাহিক জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ইসরায়েল মাত্র ১০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লির প্রবেশ অনুমতি দিয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয়, যা আরব নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যা ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জন্য উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে।
বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক প্রবেশ শর্ত
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা 'সিওজিএটি' এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রমজান মাসে জুমার নামাজের জন্য আলাদা অনুমতিপত্র সংগ্রহের শর্তে ১০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে টেম্পল মাউন্টে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এই অনুমতি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট বয়স ও লিঙ্গের গোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য হবে।
- পুরুষদের ক্ষেত্রে: শুধুমাত্র ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সি পুরুষরা প্রবেশ করতে পারবেন।
- নারীদের ক্ষেত্রে: ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি নারীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
- শিশুদের ক্ষেত্রে: সর্বোচ্চ ১২ বছর বয়সি শিশুরা প্রথম শ্রেণির আত্মীয়ের সঙ্গে প্রবেশ করতে পারবে।
এই বিধিনিষেধগুলো রমজান মাসে সাধারণত লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি মুসল্লি আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করার ঐতিহ্যের বিপরীতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রবেশাধিকারের উপর অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিধিনিষেধ রমজান মাসের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে প্রভাব ফেলতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যবস্থা জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
আল-আকসা মসজিদ ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং রমজান মাসে এখানে নামাজ আদায় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই নতুন নিয়মাবলি কীভাবে মাসজুড়ে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন।
