উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়লো আব্রাহাম লিংকন রণতরির অবস্থান
বিবিসি ভেরিফাইয়ের উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে ইরানের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, রণতরিটি ওমান উপকূলের কাছে ইরান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
ইরানের সামরিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন দেশটির ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিবিসি ভেরিফাইয়ের উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির চিত্র। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে দেখা গেছে, আব্রাহাম লিংকন আরব সাগরে ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১৫০ মাইল দূরে অবস্থান করছে।
বিবিসি ভেরিফাই এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে পারমাণবিক শক্তিচালিত এই বিমানবাহী রণতরিও রয়েছে। রণতরিটিতে রয়েছে তিনটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ মোট ৯০টি উড়োজাহাজ এবং প্রায় ৫ হাজার ৬৮০ নৌবাহিনীর সদস্য। জানুয়ারির শেষ দিকে রণতরিটিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল, তবে এত দিন পর্যন্ত উপগ্রহ চিত্রে সেটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।
ইরানের পাল্টা সামরিক মহড়া
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জবাবে ইরানও নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে নেমেছে। গত সোমবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী উপসাগরে অবস্থিত হরমুজ প্রণালিতে নৌ মহড়া চালিয়েছে। আইআরজিসির প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরকে বন্দরে নৌযান পরিদর্শন করতে দেখা গেছে, এবং পরবর্তীতে একটি জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে বিবেচিত হয়, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস আনা-নেওয়া করা হয়। ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্জ দ্বীপ থেকেও এ পথ দিয়ে তেল সরবরাহ হয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের প্রেক্ষাপট
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। ইরান দাবি করেছে যে, বৈঠকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা আরও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চায়।
ঝুঁকি নির্ণয়বিষয়ক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিবিলিনের প্রধান ক্রাম্পের মতে, বর্তমানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন এবং ওই অঞ্চলে থাকা আটটি বিদ্যমান বিমানঘাঁটির সহায়তায় প্রতিদিন প্রায় ৮০০টি অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে, যার লক্ষ্য হবে ইরানের পাল্টা হামলাকে অকার্যকর করে দেওয়া।
ক্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, "আমরা যা দেখছি, তা শুধু হামলার প্রস্তুতি নয়; বরং এটি একটি বিস্তৃত আকারের প্রতিরোধমূলক মোতায়েন; যা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো বা কমানো যায়।"
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির এই ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
