সুদানে ড্রোন হামলায় ২৮ জন নিহত, আহত কয়েক ডজন: মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন
সুদানে ড্রোন হামলায় ২৮ নিহত, আহত কয়েক ডজন

সুদানে ড্রোন হামলায় ২৮ জন নিহত, আহত কয়েক ডজন: মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন

সুদানের উত্তর কর্দোফান অঞ্চলের সোডারি শহরের একটি জনবহুল বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লয়ার্স। রবিবার সোডারি শহরের আল-সাফিয়া বাজারে এই হামলা চালানো হয়, যখন বাজারে মানুষের ভিড় বেশি ছিল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর নিশ্চিত করেছে।

হামলার বিস্তারিত ও মানবিক বিপর্যয়

সোমবার ইমার্জেন্সি লয়ার্স তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, রবিবার উত্তর কর্দোফান রাজ্যের সোডারি শহরের আল-সাফিয়া বাজারে ড্রোন বোমা হামলা চালানো হয়। সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়েছে যে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হামলার সময় বাজারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ড্রোনের ব্যবহার সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতি অবহেলার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে ইমার্জেন্সি লয়ার্স বলেছে, এটি অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। সংগঠনটি সংঘাতরত পক্ষগুলোকে অবিলম্বে ড্রোন হামলা বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।

হামলার পটভূমি ও ভৌগোলিক গুরুত্ব

এই হামলার মূল কারণ ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদান সেনা ও র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)এর মধ্যে চলমান যুদ্ধ। ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সোডারি শহরটি মরুভূমির বাণিজ্যপথে অবস্থিত এবং উত্তর কর্ডোফানের রাজধানী এল-ওবেইদ থেকে ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।

অঞ্চলটি বর্তমানে দুই পক্ষের প্রধান সংঘর্ষক্ষেত্র, কারণ তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম করিডরের নিয়ন্ত্রণ নিতে লড়াই করছে, যা খার্তুম ও অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখে। এই সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই কমপক্ষে ৪০,০০০ মানুষ নিহত এবং ১.২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। ইমার্জেন্সি লয়ার্সের মতো সংস্থাগুলো সুদানে চলমান সংঘাতের অবসান ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।

সুদানের উত্তর কর্দোফান অঞ্চলে ড্রোন হামলার মতো ঘটনাগুলো স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে ফেলছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের হামলা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, যদি না সংঘাতরত পক্ষগুলো শান্তি আলোচনায় এগিয়ে আসে।