ইরানের সামরিক মহড়া: হরমুজ প্রণালীতে আইআরজিসির প্রস্তুতি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষাপট
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) হরমুজ প্রণালীতে একাধিক সামরিক মহড়া শুরু করেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তেহরান এই মহড়াকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও সামরিক হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ফরাসিভিত্তিক বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
মহড়ার উদ্দেশ্য ও সময়সীমা
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সংবাদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রাক্কালে সোমবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ধারাবাহিক সামরিক মহড়া শুরু করেছে। মহড়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। এর মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও সামরিক হুমকি মোকাবিলায় গার্ড বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা।
মহড়ার বিস্তারিত ও নেতৃত্ব
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরের তত্ত্বাবধানে আবু মুসা দ্বীপ থেকে এই মহড়া শুরু হয়েছে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দ্বীপভিত্তিক ইউনিটগুলো মূল ভূখণ্ডের সহায়তা ছাড়াই অভিযান চালাতে পারে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ১,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে শত্রুপক্ষের ডেস্ট্রয়ার ধ্বংসে সক্ষম।
আলোচনার প্রেক্ষাপট
এই মহড়া এমন সময় শুরু হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওই আলোচনায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে জেনেভায় পৌঁছেছেন। ওমানের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাপ দিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যাপক মোতায়েনকে তিনি আরমাডা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক মহড়া আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
