গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১১ ফিলিস্তিনি নিহত, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ
গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে রোববার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। চিকিৎসাকর্মীদের সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই হামলাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির সর্বশেষ লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতি গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছিল বলে জানা গেছে।
উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় হামলার বিস্তারিত
হাসপাতাল সূত্র আল–জাজিরাকে জানিয়েছে, গাজার উত্তরাঞ্চলে জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়া তাঁবুগুলো লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন। একইভাবে, দক্ষিণের খান ইউনিস এলাকাতেও ইসরায়েলি হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আলাদা করে গাজার সূত্রগুলো আল–জাজিরাকে বলেছে, রোববার গাজা নগরের পূর্ব দিকে তাল আল-হাওয়া এলাকায় এক হামলায় ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে)-এর কমান্ডার সামি আল-দাহদুহ নিহত হয়েছেন।
হামাসের নিন্দা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পরিসংখ্যান
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম সর্বশেষ ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এগুলো হচ্ছে মাঠে রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি করার স্পষ্ট চেষ্টা এবং গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব প্রচেষ্টা ও সংস্থাকে অকার্যকর প্রমাণ করার বার্তা।” তাঁর ভাষায়, সব পক্ষ যখন যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, তখনো দখলদার শক্তি তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।
গাজা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ৬০১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং আরও ১ হাজার ৬০৭ জনকে আহত করেছে। গাজার সরকারি গণমাধ্যম শাখাও বলেছে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অন্তত ১ হাজার ৬২০টি ঘটনা ঘটিয়েছে ইসরায়েল। এদিকে হামাসের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ এনেছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, এতে চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ ও গাজা পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি
শান্তি পর্ষদের বৈঠক সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, বোর্ডের সদস্যরা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, গাজাবাসীর নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স ও স্থানীয় পুলিশ বাহিনীতে হাজারো কর্মী’ মোতায়েনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে ১০০ কোটি ডলার করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচটি দেশ এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। শান্তি পর্ষদের ২০ সদস্যের মধ্যে কতজন প্রথম বৈঠকে অংশ নেবেন তা ট্রাম্প সুস্পষ্ট করে বলেননি।
গাজায় মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই হামলাগুলো গাজায় চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। দক্ষিণ গাজা উপত্যকার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের জানাজায় স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে এই ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এই হামলার নিন্দা ও শান্তি প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান আসছে। গাজার পরিস্থিতি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে।
