জেলেনস্কির অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর চাপ না দিয়ে ইউক্রেনকেই ছাড় দিতে বলছে
জেলেনস্কির অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর চাপ কমাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর চাপ না দিয়ে ইউক্রেনকেই ছাড় দিতে বলছে: জেলেনস্কির অভিযোগ

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা চলমান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় রাশিয়ার ওপর পর্যাপ্ত চাপ সৃষ্টি না করে বারবার ইউক্রেনকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে। শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এই মর্মপীড়াদায়ক অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার বিষয়ে কোনো প্রকার আপস না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

একপাক্ষিক নমনীয়তার সমালোচনা

জেলেনস্কি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, শান্তি স্থাপনের প্রক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে নমনীয় হওয়ার যে পরামর্শ দিচ্ছে, তা প্রায়শই একপাক্ষিক হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "আমেরিকা এবং অন্যান্য অংশীদাররা আমাদের কাছে বারবার জানতে চায় যে, আমরা কী কী ছাড় দিতে পারি। কিন্তু আমি তাদের জিজ্ঞাসা করতে চাই যে, আপনারা রাশিয়ার কাছ থেকে কী ছাড় আদায় করেছেন? পুতিনকে থামানোর জন্য আপনারা কী নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছেন?" এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সার্বভৌমত্বে দৃঢ় অবস্থান

ইউক্রেনীয় নেতা জোর দিয়ে বলেন, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনো প্রকার আপস করা সম্ভব নয়। তার মতে, ইউক্রেনকে ছাড় দিতে বাধ্য করা মানে রাশিয়ার আগ্রাসনকে এক প্রকার স্বীকৃতি দেওয়ার শামিল। জেলেনস্কির বক্তব্যে ফুটে উঠেছে:

  • পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রাশিয়ার ওপর চাপের অভাব
  • ইউক্রেনের প্রতি একতরফা ছাড় দাবির প্রবণতা
  • সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইউক্রেনের অটল প্রতিশ্রুতি

আলোচনায় ভারসাম্যের দাবি

জেলেনস্কির এই সাক্ষাত্কার যুদ্ধবিরতি আলোচনায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, শান্তি প্রক্রিয়া কেবল ইউক্রেনের নমনীয়তার ওপর নির্ভর করলে তা টেকসই হবে না। বরং রাশিয়ার ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি এবং আগ্রাসন বন্ধে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়াই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। এই অবস্থান ইউক্রেনের কূটনৈতিক লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সামগ্রিকভাবে, জেলেনস্কির বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত থাকলেও তার সার্বভৌম অধিকার ও ভূখণ্ডের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়ার মনোভাব নেই। এই সংকটের সমাধান কেবল তখনই সম্ভব, যখন রাশিয়ার ওপর যথাযথ চাপ প্রয়োগ করে তাকে আলোচনার টেবিলে আনা হবে।