গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৮ ফিলিস্তিনি নিহত, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ
গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র নিশ্চিত করেছে। একই দিনে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননেও একাধিক হামলা চালিয়েছে। রোববারের এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিযোগ উঠেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবরটি প্রথম প্রকাশ করে।
গাজার দক্ষিণ ও উত্তরে হামলার বিস্তারিত
চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নাসের হাসপাতালের একটি সূত্র উল্লেখ করেছে, এই হামলাটি গাজায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের নির্ধারিত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে সংঘটিত হয়েছে।
এছাড়া উত্তর গাজার আল-ফালুজা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাবুতে হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন বলে আল-শিফা হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই হামলাগুলোতে আহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আহতদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া ও দাবি
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সরকার। তবে দেশটির সামরিক বাহিনী একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে, উত্তর গাজার একটি ভবনে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঢোকার পর সেখানে হামলা চালিয়ে অন্তত দুজনকে হত্যা করা হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী আরও একজনকে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে হত্যার কথাও বলেছে, যদিও এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ বা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা এই দাবিগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
দক্ষিণ লেবাননে হামলা ও যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি
এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র রাখার গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই হামলার অভিযোগ উঠছে।
এই হামলাগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ঘটনাগুলো যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর অবস্থাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পরিসংখ্যান ও মানবিক সংকট
গাজা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল ১,৫০০ বারের বেশি তা লঙ্ঘন করেছে। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৫৯১ জন নিহত ও ১,৫৯০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
চলমান যুদ্ধের সামগ্রিক প্রভাব আরও ভয়াবহ। গাজায় প্রায় ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। অঞ্চলটির ৯০ শতাংশ অবকাঠামো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ চরম মানবিক সংকটে বসবাস করছেন।
এই পরিস্থিতিতে খাদ্য, পানি, ওষুধ ও চিকিৎসা সেবার মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করে আসছে যে, গাজা একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
