গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৯ ফিলিস্তিনি নিহত, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তি উপেক্ষা করে হামলা চালিয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সংঘটিত এই হামলায় কমপক্ষে ৯ ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসা সূত্র থেকে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।
খান ইউনিস ও আল-ফালুজায় হামলা
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। এছাড়া, উত্তর গাজার আল-ফালুজা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের জন্য একটি তাঁবুতেও হামলা চালানো হয়, যেখানে আরও চার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। ইসরাইলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, উত্তর গাজায় একটি ভবনে সশস্ত্র ব্যক্তিদের প্রবেশের পর হামলা চালানো হয়, যাতে দু’জন নিহত হয়।
ইয়েলো লাইন বা হলুদ রেখা লঙ্ঘন
যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে গাজায় নির্দিষ্ট সীমারেখা বরাবর ইসরাইলি সেনা সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যাকে ‘ইয়েলো লাইন’ বা ‘হলুদ রেখা’ বলা হয়। তবে, এই হামলা তথাকথিত হলুদ রেখার বাইরেও সংঘটিত হয়েছে, যা চুক্তি লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করে। আইডিএফ আরও জানিয়েছে, হলুদ রেখা অতিক্রম করার সময় একজনকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে হত্যা করা হয়েছে।
লেবাননে হিজবুল্লাহর গুদামে হামলা
এদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত অস্ত্র ও লঞ্চার সংরক্ষণের গুদামে হামলার দাবি করেছে। তবে, এসব হামলায় এখনও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। গাজার পাশাপাশি এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এই হামলাগুলো ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের ওপর ইসরাইলি আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
