নাইজেরিয়ায় ২০০ মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন
নাইজেরিয়ায় ২০০ মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর এবার আফ্রিকার দিকে মনোযোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সহায়তা করতে ২০০ মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

প্রশিক্ষক হিসেবে মোতায়েন

নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী দেশটিতে সক্রিয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই লড়াইয়ে তাদের সহায়তার অংশ হিসেবে প্রশিক্ষক হিসেবে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, মার্কিন সেনারা সরাসরি কোনো অভিযানে অংশ নেবে না। তাদের ভূমিকা হবে কেবলমাত্র প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান।

আগে থেকেই সেনা উপস্থিতি

গত সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী নাইজেরিয়ায় একটি ছোট সেনাদল পাঠানোর কথা স্বীকার করেছিল, যদিও সেনা সংখ্যা স্পষ্ট করেনি। আকাশপথে হামলা চালানোর পর নাইজেরিয়ায় মার্কিন স্থল সেনা পাঠানোর এটি ছিল প্রথম স্বীকারোক্তি। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় বাহিনীগুলোকে সাহায্য করার জন্য ইতোমধ্যে কিছু মার্কিন সামরিক সদস্য নাইজেরিয়ায় রয়েছেন। নতুন করে পাঠানো ২০০ সেনা তাদের সঙ্গেই যোগ দেবেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ ও নাইজেরিয়ার প্রতিক্রিয়া

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, নাইজেরিয়া উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় ইসলামপন্থি সন্ত্রাসীদের থেকে খ্রিস্টানদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তার এই মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনের চাপে পড়ে দেশটি। তবে নাইজেরিয়ার সরকার খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত নিপীড়নের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

নাইজেরিয়ার সরকার দাবি করে, ইসলামপন্থি জঙ্গি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী খ্রিস্টান ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং হত্যা করছে। সরকার হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে কাজ করছে বলে তারা জানিয়েছে।

নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি

নাইজেরিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চল গত ১৭ বছর ধরে ইসলামপন্থি বিদ্রোহীদের কেন্দ্রস্থল হয়ে আছে। সেখানে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি) এর যোদ্ধারা সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি তাদের হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে।

এর আগে সম্প্রতি নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সেনারা। ট্রাম্প সেখানে হামলার আদেশ দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর দেশটিতে সেনা পাঠানোর এই পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।

দেশের জনসংখ্যা ও ধর্মীয় বিন্যাস

নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা ২৩ কোটিরও বেশি। দেশটিতে খ্রিস্টান ও মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় সমান। দক্ষিণাঞ্চলে খ্রিস্টানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, আর উত্তরাঞ্চলে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই ধর্মীয় বৈচিত্র্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এটিকে আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন।