পারমাণবিক রিয়্যাক্টর নিয়ে রুশ জাহাজ ডুবি: উত্তর কোরিয়ায় পাঠানো হচ্ছিল সন্দেহ
পারমাণবিক রিয়্যাক্টর নিয়ে রুশ জাহাজ ডুবি: উত্তর কোরিয়ায় পাঠানোর সন্দেহ

উত্তর কোরিয়ায় পারমাণবিক রিয়্যাক্টর বহন করছে বলে সন্দেহভাজন একটি রুশ মালবাহী জাহাজ স্পেন উপকূল থেকে ৬০ মাইল দূরে ভূমধ্যসাগরে রহস্যময় বিস্ফোরণের পর ডুবে গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

গত ২৩ ডিসেম্বর উর্সা মেজর নামের জাহাজটি তিন দফায় বিস্ফোরণের শিকার হয়ে ভূমধ্যসাগরে তলিয়ে যায়। জাহাজটি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে ভ্লাদিভোস্টকের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। সেটির প্রকাশ্য তালিকায় দুটি বড় ক্রেন, ১২৯টি খালি কনটেইনার এবং বড় আকারের দুটি ম্যানহোল কাভার পাঠানোর কথা উল্লেখ ছিল।

তবে স্প্যানিশ তদন্তকারীদের জেরার মুখে জাহাজের রুশ ক্যাপ্টেন স্বীকার করেছেন যে সেখানে সাবমেরিনে ব্যবহৃত রিয়্যাক্টরের মতো দুটি পারমাণবিক রিয়্যাক্টরের যন্ত্রাংশ ছিল। সন্দেহ করা হচ্ছে, এসব যন্ত্রাংশ উত্তর কোরিয়ার রাসোন বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিস্ফোরণ ও উদ্ধার অভিযান

গত ২৩ ডিসেম্বর ইউটিসি সময় বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে জাহাজটি বিপদসংকেত পাঠায়। তদন্তকারীরা জানান, জাহাজের ডান দিকে ইঞ্জিন রুমের কাছে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুই ক্রু সদস্য নিহত হন এবং জাহাজটি অচল হয়ে একদিকে হেলে পড়ে। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ ১৪ জন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে।

পরবর্তী পরিদর্শনে জাহাজের খোলে ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া একটি গর্ত পাওয়া যায়, যার ধাতু ভেতরের দিকে বাঁকানো ছিল। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এটি কোনও উচ্চগতির টর্পেডোর আঘাত কি না। এই ধরনের শক্তিশালী টর্পেডো কেবল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরান ও অল্প কিছু ন্যাটোভুক্ত দেশের কাছে রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরবর্তী ঘটনা ও তদন্ত

জাহাজটির মালিকানাধীন রুশ প্রতিষ্ঠান ওবোরোনলজিস্টিকস এই ঘটনাকে একটি ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে রাশিয়ার সামরিক জাহাজ ইভান গ্রেন থেকে লাল ফ্লেয়ার ছুড়তে দেখা যায় এবং এরপর আরও চারটি বিস্ফোরণ শনাক্ত করা হয়।

জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর রাশিয়ার একটি সন্দেহভাজন গোয়েন্দা জাহাজ ইয়ান্টার পাঁচ দিন ধরে দুর্ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রের তলদেশে থাকা ধ্বংসাবশেষ লক্ষ্য করে আরও চারটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরল বিমান ডব্লিউসি১৩৫-আর ওই এলাকায় দুবার চক্কর দিয়েছে। তেজস্ক্রিয় পদার্থ শনাক্তে সাধারণত এই বিমান ব্যবহৃত হয়।