লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিবারে শোক
লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিবারে শোক

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ১৩ লাখ টাকা ঋণ করে লেবাননে গিয়ে দুই মাস পার হতেই তাদের মৃত্যুর খবর পেলেন স্বজনরা। এ অবস্থায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম দুই ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা তারা। তাদের মরদেহ ফেরত আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়ের যেব্দিন এলাকায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় ওই দুই বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। নিহতরা হলেন- সাতক্ষীরা সদরের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. আবদুল কাদেরের ছেলে মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২২)।

শফিকুল ইসলামের পরিবারের বক্তব্য

শফিকুল ইসলামের মা আজেয়া খাতুন বলেন, ‘শফিকুল পরিবারের বড় ও একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে। তার তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি লেবাননে গিয়েছিল। তার সঙ্গে গিয়েছিল নাহিদও। যেব্দিন এলাকায় নাহিদ দুম্বার রাখাল ও শফিকুল বেকারিতে কাজ করতো। সোমবার বিকালে ওই এলাকায় ইসরায়েলি হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় ভ্যানে করে দুজনে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিল। এ সময় ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলে মারা যায় দুজন। সন্ধ্যায় আমাদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শফিকুল ইসলামের বাবা আফসার আলী বলেন, ‘বিদেশ যেতে শফিকুল আট লাখ টাকা মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিল। লেবাননে যাওয়ার পর ১ মাস আগে ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিল। তার দুই মেয়ে। উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে এখন আমাদের কী হবে। কীভাবে মানুষের এত টাকা ঋণ পরিশোধ করবো।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাহিদুল ইসলামের পরিবারের বক্তব্য

নাহিদুল ইসলামের মা নূরনাহার বলেন, ‘নাহিদ ও শফিকুল একই সময়ে লেবাননে যায়। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় নাহিদ। তার ছোট ভাইয়ের নাম নাফিজ (১২)। আশাশুনির দরগাহপুর কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময় নাহিদের সঙ্গে শফিকুল ইসলামের পরিচয় হয়। এরপর দুজনে ঋণের ওপর টাকা নিয়ে লেবাননে গিয়েছিল। লেবাননে দুজনে একই এলাকায় কাজ করতো। মারাও গেলো একসঙ্গে। তাদের মরদেহ নাখতিয়ের নাবিহো বেরোবি হাসপাতালে রয়েছে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।’

নাহিদুল ইসলামের ফুফু রোজিনা খাতুন বলেন, ‘নাহিদ বিদেশে যাওয়ার সময় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গিয়েছিল। বিদেশে গিয়ে মাত্র এক মাস টাকা পাঠিয়েছে। আর ঋণের এক টাকাও পরিশোধ করা হয়নি। এত টাকা কীভাবে শোধ করবে তার পরিবার, তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’

প্রশাসনের পদক্ষেপ

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল বলেন, ‘বিষয়টি সরেজমিনে খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন পেলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের লাশ আনার ব্যবস্থা করা হবে।’