তীব্র উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ। শুক্রবার (৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনীর ব্যাপক আক্রমণের মুখেও মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি: ইরানের হামলা ব্যর্থ
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, হামলার শিকার হলেও মার্কিন জাহাজগুলোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, বরং পাল্টা আক্রমণে ইরানি হামলাকারীদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। বর্তমানে এই যুদ্ধজাহাজগুলো তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে আবারও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ-অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। তবে অত্যন্ত পারদর্শিতার সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে আকাশেই ধ্বংস করে দেয় এবং ড্রোনগুলোকে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন নৌসেনার প্রশংসা ও ইরানের সমালোচনা
ট্রাম্প তার দেশের নৌসেনাদের ‘বিশ্বমানের’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইরানের এই উসকানিমূলক হামলা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা চলছিল, এই ঘটনা তাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানকে একটি ‘অস্বাভাবিক দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প তার বার্তায় তীব্র সমালোচনা ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘একটি স্বাভাবিক দেশ হলে এই যুদ্ধজাহাজগুলোকে নির্বিঘ্নে যেতে দিত, কিন্তু ইরান তা নয়। দেশটি উন্মাদদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।’
পারমাণবিক অস্ত্র ও ভবিষ্যৎ হুঁশিয়ারি
ট্রাম্প আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তারা কোনো চিন্তা ছাড়াই সেটি ব্যবহার করত। তবে তেহরানকে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হলো। ভবিষ্যৎ সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, যদি ইরান দ্রুত তাদের ‘ডিল’ বা চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তবে আগামীতে তাদের ওপর আরও কঠোর ও সহিংসভাবে আঘাত হানা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধের একটি মহড়া হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ইরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মত: যুদ্ধের শঙ্কা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক বার্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে সরাসরি সংঘাতের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন তেহরানের পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই



