নেপালের কর্তৃপক্ষ শনিবার রাজধানী কাঠমান্ডুর নদীর তীরে হাজার হাজার মানুষের বসতি উচ্ছেদ শুরু করেছে। মানবাধিকার সংগঠনের সমালোচনা সত্ত্বেও এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
বসতি উচ্ছেদের পটভূমি
বাগমতি নদী ও তার উপনদীগুলোর তীরে কাঠমান্ডু উপত্যকাজুড়ে বহু দশক ধরে বসবাস করে আসছেন এসব বাসিন্দা। তাদের বেশিরভাগই কাঠ ও টিনের পাত দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ঘরে থাকেন।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নির্দেশে শনিবার ভোরে বুলডোজার ও বিপুল পুলিশি প্রহরা নিয়ে এলাকা পরিষ্কার করতে নামে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের বক্তব্য
কাঠমান্ডু মহানগর পুলিশের প্রধান ভীষ্ম প্রসাদ জোশি এএফপিকে বলেন, 'আমরা আজ এই এলাকার বসতি পরিষ্কার করছি।' তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের উচ্ছেদের আগে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে এলাকা ছেড়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছিল। 'যাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই, তাদের আমরা সহায়তা করছি,' বলেন জোশি।
উচ্ছেদ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। বাসিন্দারা ব্যাগ ও আসবাবপত্র নিয়ে ছোট ট্রাকে করে তাদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যান।
বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
তিন দশক ধরে এই এলাকায় বসবাসকারী ৬৫ বছর বয়সী পুষ্পা কাসাই বলেন, 'আমার বেঁচে থাকা বা মরে যাওয়া নিয়ে আমি জানি না, কারণ এখন আমার থাকার কোনো জায়গা নেই।'
অপর বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী ডম্বর বাহাদুর তামাং বলেন, 'আমার জন্য ঠিক আছে, সরকার এটি করেছে। এখানে থাকলে বন্যার ভয় থাকে, তাই কিছু উপায়ে এটি ভালো সিদ্ধান্ত।'
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রী শাহ এই উচ্ছেদের পক্ষে যুক্তি দিয়ে শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, 'অসংগঠিত ও বন্যা প্রবণ এলাকা' থেকে নাগরিকদের সরানো গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, 'এই সরকার বছরের পর বছর ধরে চলা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দেবে।' তিনি আরও বলেন, প্রকৃত বসতি স্থাপনকারীদের জমি দেওয়া হবে।
শাহ জানান, এই স্থানান্তর কাঠমান্ডুর নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করতে এবং আবর্জনা ও দূষণে ভরা নদীগুলোর অবস্থার উন্নতি করতে সহায়তা করবে।
মানবাধিকার সংগঠনের সমালোচনা
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, জোরপূর্বক উচ্ছেদ 'আইনগত শাসনের বিপজ্জনক ক্ষয় এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি' প্রতিফলিত করে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নেপালের পরিচালক নিরঞ্জন থাপালিয়া শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, 'পূর্ব যাচাই, অর্থপূর্ণ আলোচনা বা নিশ্চিত বিকল্প আবাসন ছাড়া পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করা সেই প্রতিশ্রুতি দুর্বল করে এবং শাসন চ্যালেঞ্জকে প্রতিরোধযোগ্য মানবাধিকার সংকটে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করে।'



