লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় সাংবাদিক নিহত, আহত আরেক সাংবাদিক
লেবাননে ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিক নিহত

লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় সাংবাদিক নিহত, আহত আরেক সাংবাদিক

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলায় একজন সাংবাদিক নিহত ও অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) সংঘটিত এই হামলায় আল-আখবার পত্রিকার সাংবাদিক আমাল খলিল প্রাণ হারিয়েছেন এবং জয়নাব ফারাজ নামে আরেক সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

হামলার বিস্তারিত বিবরণ

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, আমাল খলিল নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তাইরি শহরে এই হামলার শিকার হন। গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত চতুর্থ গণমাধ্যমকর্মী হলেন তিনি।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আমাল খলিলকে উদ্ধারের চেষ্টার সময় ইসরাইলি হামলায় জয়নাব ফারাজ গুরুতর আহত হন। লেবানন রেড ক্রসের কর্মীরা চরম প্রতিকূলতা ও গুলিবর্ষণের মধ্যে জয়নাবকে উদ্ধার করে তিবনিন হাসপাতালে ভর্তি করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলার পটভূমি ও প্রভাব

জানা গেছে, প্রথম দফার হামলা থেকে বাঁচতে এই সাংবাদিকরা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। এই হামলায় সাংবাদিকদের পাশাপাশি আরও দুই ব্যক্তি নিহত এবং নাবাতিহ জেলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই ঘটনায় দুই সাংবাদিক আহত হওয়ার খবর স্বীকার করলেও উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর একটি সামরিক স্থাপনা থেকে আসা দুটি সন্দেহভাজন গাড়িকে লক্ষ্য করে তারা এই হামলা চালিয়েছে, যেগুলোকে তারা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তবে ওই গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে কারা ছিলেন, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) থেকে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে কার্যকর হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটল। সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে চালানো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।

উল্লেখ্য, নিহত আমাল খলিলের কর্মস্থল আল-আখবার পত্রিকাটি লেবাননের একটি বামপন্থী এবং হিজবুল্লাহপন্থী গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত। ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি বর্তমানে তাদের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।

এই হামলা লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে চলমান উত্তেজনার আরেকটি অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা নতুন করে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।