ট্রাম্পের তীব্র অভিযোগ: ইরান যুদ্ধে মার্কিন সাফল্য গোপন করছে সংবাদমাধ্যম
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সিএনএনসহ দেশটির প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো ইরান যুদ্ধে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর অর্জিত সাফল্যসমূহ সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, এই গণমাধ্যমগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অর্জনকে খাটো করে দেখাচ্ছে, যা কেবল অবমাননাকরই নয়, বরং শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করতেও নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টে কড়া সমালোচনা
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সংবাদমাধ্যমগুলো মার্কিন বাহিনীর সাফল্য গোপন করে চলেছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই কড়া সমালোচনার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি তার পোস্টে গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ট্রাম্প এই অভিযানকে একটি ‘চরম ও পূর্ণাঙ্গ ধ্বংসযজ্ঞ’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেন যে, এই হামলার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি তছনছ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ
ট্রাম্প দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, এই সংবাদপত্রগুলো সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ক্ষতি’ বা ‘পরাজয়’ হিসেবে চিত্রায়িত করছে। ট্রাম্পের মতে, তারা সত্য গোপন করে মার্কিন জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি আরও লিখেছেন, ভুল ও পক্ষপাতমূলক সংবাদ পরিবেশনের ফলে খোদ শত্রুপক্ষও বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং তারা মার্কিন শক্তির প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পারছে না।
‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন
ট্রাম্প সিএনএনসহ অন্যান্য মিডিয়া নেটওয়ার্কগুলোকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তারা মার্কিন বৈমানিক ও সেনাদের প্রাপ্য কৃতিত্ব দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তার মতে, গণমাধ্যমের এই আচরণ মূলত জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এবং এটি সম্মুখসমরে থাকা সেনাদের মনোবল কমিয়ে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মার্কিন মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের হলেও যুদ্ধের এই সংকটকালীন সময়ে তা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে অভ্যন্তরীণ বাকযুদ্ধের প্রভাব
যেখানে প্রেসিডেন্ট সামরিক বিজয় দাবি করছেন, সেখানে গণমাধ্যমগুলো ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান এবং অভিযানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো যখন এই সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছে, তখন দেশের ভেতরের এই অভ্যন্তরীণ বাকযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতি মার্কিন নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।



