দীর্ঘ ভোগান্তির পর যমুনা সেতুর পশ্চিম অংশ যানজটমুক্ত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল থেকে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ভোর থেকে সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ অংশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। এই যানজট কখনো ধীরগতির, আবার কখনো দীর্ঘ আকার ধারণ করে।
যানজটের কারণ
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে সেতুর ঢাকামুখী লেনে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি গাড়ি বিকল হওয়ায় ভোগান্তি শুরু হয়। পরে দুর্ঘটনা এবং নতুন করে আরও কয়েকটি যানবাহন বিকল হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও পাঁচ থেকে সাতজন আহত হন। এতে সেতুর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
যানজট নিরসনের প্রচেষ্টা
দুর্ঘটনার পর রেকার দিয়ে বাস দুটি সরানো হলে যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়। তবে ভোররাতে আবার কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে সেতুর দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং সকাল ৯টা থেকে যানজটমুক্ত হয়।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, শনিবার ভোর থেকে সিরাজগঞ্জ অংশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার যানজট ছিল। বিকল যান অপসারণের পর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বগুড়া থেকে ঢাকাগামী অপরূপা পরিবহনের চালক আসলাম হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৭টায় বগুড়া থেকে রওনা হয়ে সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড় এসে দেখেন যানজট নেই। তিনি বলেন, 'শুনেছি রাতে ও ভোরবেলা অনেক দীর্ঘ যানজট ছিল।'
সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী অভি পরিবহনের যাত্রী ছাবিনা খাতুন বলেন, 'ভোর থেকে যানজট ছিল, কিন্তু এখন আর মহাসড়কে যানজট দেখছি না। আশা করছি, স্বাভাবিকভাবেই ঢাকা পৌঁছাতে পারব।'
সকাল সাড়ে ৯টায় সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড় এলাকায় মহাসড়ক যানজটমুক্ত দেখা যায়। যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।
যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনা, যানবাহন বিকল ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সেতুর দুপাশেই যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উত্তরবঙ্গগামী লেনে টাঙ্গাইল থেকে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে পরে দুটি লেন খুলে দেওয়া হয়। আজ সকাল নাগাদ দুর্ঘটনাকবলিত ও বিকল যানবাহন অপসারণ করায় যানজটমুক্ত হয়েছে।



