চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান তার মিত্র আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তেহরানের কাছে এখনো তাদের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের '২১ থেকে ২২ শতাংশ' অবশিষ্ট রয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'তাদের (ইরান) এখনো সক্ষমতা রয়েছে। তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আছে। আমি বলব, শতকরা হিসাবে তাদের কাছে হয়তো ২১ বা ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র বাকি আছে।'
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া এই হিসাব গত মাসের চেয়ে বেশি। মে মাসে তিনি এই হার ১৮ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও ট্রাম্প প্রায়ই দাবি করে থাকেন যে তিনি ইরানের যুদ্ধ করার সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন।
কুয়েতে হামলা প্রতিহত
আজ শনিবার ভোরের দিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারা তাদের ওপর আসা 'শত্রুভাবাপন্ন' ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কুয়েতের সামরিক বাহিনী বলেছে, 'কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী বর্তমানে শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে।' তবে এই হামলা কোথা থেকে চালানো হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। কুয়েতের সেনাবাহিনী আরও বলেছে, 'কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ নিশ্চিত করছে যে এখন যে ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা শত্রুভাবাপন্ন হামলা প্রতিহত করার কাজে নিয়োজিত আমাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থারই ফলাফল।'
এর দুই দিন আগে কুয়েত জানিয়েছিল যে তারা ইরানের 'জঘন্য আগ্রাসনের' অংশ হিসেবে ছোড়া ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
ইরানের দাবি ও মার্কিন অস্বীকার
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী গতকাল শুক্রবার বলেছে যে তারা ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজ বা ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে 'সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র' ছুড়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের এই দাবি অস্বীকার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।



