যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েল সরকারের মধ্যে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। দেশটি জানিয়েছে, তারা দক্ষিণাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব
বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয়, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যদি যুদ্ধ বন্ধ করে এবং সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ লেবানন থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে নেয়, তাহলে লেবানন ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবে। তবে আলোচনার অংশ না থাকা হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়া
এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই আলোচনা নির্লজ্জ। ওয়াশিংটনের ঘোষণা লেবাননের একটি অংশের জনগণকে নিশ্চিহ্ন করা এবং বাকি জনগণকে দাসে পরিণত করার একটি রোডম্যাপ। তিনি আরও বলেন, ‘দখলদারত্ব যত দিন থাকবে, প্রতিরোধও তত দিন চলবে।’
সংঘাতের পটভূমি
গত ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে তেহরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হিজবুল্লাহ হামলা শুরু করলে দুই পক্ষের সংঘাত আবার জোরালো হয়। এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটন থেকে কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। এ সংঘাত এখন আঞ্চলিক সংকট সমাধানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান বলেছে, যেকোনও সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে।
হিজবুল্লাহর শর্ত
নাইম কাসেম বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্তের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের বিষয়টি থাকতে হবে। সেখানে ইসরায়েল একটি ঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চল দখল করে রেখেছে, যা তাদের ভাষ্য অনুযায়ী উত্তর ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য। তিনি বলেন, আমাদের গ্রামগুলো যত দিন অনিরাপদ থাকবে, বোমায় বিধ্বস্ত হবে এবং আমাদের মানুষ নিহত হবে, তত দিন উত্তর ইসরায়েলের শহরগুলোও নিরাপদ হবে না।
লেবাননের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য
হিজবুল্লাহর বিবৃতির আগে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতির কাঠামো একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার শেষ সুযোগ। সব পক্ষ সম্মত হলে এক দিনের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে।
ইসরায়েলের অবস্থান
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, এ মুহূর্তে আমরা আমাদের গোলাবর্ষণ ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাব। দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের উদ্দেশে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও সতর্কবার্তা দিয়ে জানায়, তারা হিজবুল্লাহর স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কাৎজ বলেন, ইসরায়েল ওই এলাকায় ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস’ অব্যাহত রাখবে এবং ‘ইসরায়েলি জনপদ ও ভূখণ্ডে হামলার জবাবে বৈরুতে আঘাত হানার স্বাধীনতা’ তাদের রয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলা
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সোহমর শহরে বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৈরুতের আকাশে একটি ড্রোনও চক্কর দিতে দেখা গেছে। সূত্র: রয়টার্স



