যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়ে সমঝোতা হলেও আপাতত দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী স্থল অভিযান চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। সেইসঙ্গে ইসরাইলি অভিযানের কারণে বাস্তুচ্যুত লেবাননের বাসিন্দারাও এখনই নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন না বলে জানান তিনি।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় লেবানন ও ইসরাইল যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হওয়ার একদিন পর এ মন্তব্য করেন ইসরাইল কাটজ। তবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো হিজবুল্লাহর সব ধরনের হামলা বন্ধ করা।
শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি
বিবৃতিতে কাটজ জানান, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ সেনারা অবস্থান অব্যাহত রাখবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৯০০ বছর পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ এলাকা, যা গত শনিবার ইসরাইলি বাহিনী দখল করে। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে ইসরাইল ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযান’ চালিয়ে যাবে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরাইলের এমন স্বাধীনতা থাকবে যে, ইসরাইলি জনপদ বা ভূখণ্ডে হামলার জবাবে প্রয়োজন হলে বৈরুতেও হামলা চালাতে পারবে। কাটজের এই মন্তব্য ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভঙ্গুর অবস্থা তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে আলোচনার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরাইলের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণরূপে হামলা বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে লেবাননের সরকার ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত উপস্থিতি এবং অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন কঠিন হবে, কারণ উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস রয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সর্বশেষ মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।



