খান জাহান আলীর দিঘি থেকে কুমির সরানো হলো শিশুর মৃত্যুর পর
খান জাহান আলীর দিঘি থেকে কুমির সরানো হলো

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলীর দিঘি থেকে একমাত্র কুমিরটিকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আট বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার স্থানীয় প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নেয়। কুমিরটিকে খুলনার বন্য প্রাণী প্রজনন ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত

মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় দিঘি ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। বন বিভাগের একটি বিশেষ দল বুধবার বিকেলে দিঘি থেকে স্ত্রী কুমিরটিকে সরিয়ে নেয়।

কুমিরের বয়স ও ওজন

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুমিরটির বয়স প্রায় ৪৫ বছর, ওজন প্রায় ৬০০ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ৯ ফুট ৩ ইঞ্চি। জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, এই কুমিরটি দিঘিতে শেষ কুমির ছিল। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এটি সরানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করা গেলে কুমিরটিকে আবার দিঘিতে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।

শিশুটির মৃত্যু

সোমবার দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে গিয়ে ফাতেমা আক্তার নামে ওই শিশুটি কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয়রা দিঘি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিঘির পূর্ব পাড় থেকে কুমিরটি সরিয়ে খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, কুমিরটি সুস্থ আছে এবং দিঘিতে উপযুক্ত সুরক্ষিত স্থান তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এটি ভবিষ্যতে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঐতিহাসিক দিঘি

খান জাহান আলীর দিঘিটি প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো বলে মনে করা হয়। এটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি প্রধান আকর্ষণ। দীর্ঘদিন ধরে তীর্থযাত্রী ও পর্যটকরা এই দিঘির কুমিরগুলোকে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন।

অনেক দর্শনার্থী মানত করার পর হাঁস ও মুরগি খাওয়াতেন কুমিরগুলিকে। বন বিভাগের সূত্র জানায়, ২০০৫ সাল থেকে দিঘিতে দুটি কুমির ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে পুরুষ কুমিরটি মারা যায়।

কুমিরগুলো ছিল মিঠাপানির কুমির, যা ২০০৫ সালে ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার দেয়। সংরক্ষণ ও প্রজননের জন্য ছয়টি কুমির খান জাহান আলীর দিঘিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, বাকিগুলো ঢাকা চিড়িয়াখানা ও দুলাহাজরা সাফারি পার্কে পাঠানো হয়।