ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপে ইরান ইস্যুতে যুদ্ধের প্রস্তুতি
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপে ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবরের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৭ মে) অনুষ্ঠিত এই আলাপে তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কোনও শান্তি চুক্তি না হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই দুই নেতা নতুন করে যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে কথা বললেন। হিব্রু সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ফোনালাপে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

পূর্ববর্তী যৌথ হামলা ও জ্বালানি সংকট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছিলেন, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। ফলে তাদের এই সাম্প্রতিক আলাপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির ঘোষণা দিলেও একটি প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন কর্মকর্তারা এখন ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নামে নতুন একটি ছদ্মনামে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক

ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পরপরই নেতানিয়াহু জেরুজালেমে তার কার্যালয়ে শীর্ষ সহযোগী ও মন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকেন। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, এই ধরনের বৈঠকে সাধারণত পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এবং শাস চেয়ারম্যান আরিয়েহ ডেরি উপস্থিত থাকেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার আগে নেতানিয়াহু তার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেছিলেন, ইরানের বিষয়ে আমাদের চোখ খোলা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমি অবশ্যই তার চীন সফরের অভিজ্ঞতা শুনব, হয়তো অন্য কিছুও। নিশ্চিতভাবেই অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমরা প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ফোনালাপ শেষ করেই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন। নতুন হামলার ইঙ্গিত দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই এই হামলা শুরু হতে পারে। অন্য একটি প্রতিবেদনে অ্যাক্সিওস দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্প আগামী মঙ্গলবার (১৯ মে) তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে ‘সিচুয়েশন রুম’-এ একটি বৈঠক করবেন। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিন, অন্যথায় এর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

এআই ছবি ও কূটনৈতিক বার্তা

এর আগে গত শনিবার ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে ঝোড়ো সাগরের মাঝে বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজের সামনে তাকে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর এক অ্যাডমিরালকে দেখা যাচ্ছে। ছবিতে একটি জাহাজে ইরানের পতাকা উড়ছিল এবং ছবির ওপর লেখা ছিল: ঝড়ের আগের শান্ত পরিবেশ। ট্রাম্প আবারও ইরানকে সতর্ক করে বলেন, শান্তি চুক্তি না হলে তাদের ‘খুব খারাপ সময়’ পার করতে হবে। তবে একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চুক্তি নিয়ে আশাবাদী। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমরা একটি চুক্তি করতে চাই। আমরা তাদের যেখানে দেখতে চাই, তারা এখন সেখানে নেই। তাদের সেখানে আসতে হবে, অন্যথায় তারা মারাত্মক আঘাতের মুখোমুখি হবে, যা তারা কখনও চায় না।

ইরানের অবস্থান ও শর্ত

একে অপরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর যুক্তরাষ্ট্র যখন নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে, তখন ইরানও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। তবে ব্রিকস বৈঠকে যোগ দিতে ভারত সফরে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আমেরিকার উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিয়ে বলেছেন, সামরিক শক্তির কোনও শেষ নেই এবং কেবল আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি আনা সম্ভব।

রবিবার (১৭ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কিছু মূল শর্ত নির্ধারণ করেছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন তাদের ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সমর্পণ করে, মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা সচল রাখে এবং যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এই শর্ত মেনে নেয়। ইরান এই শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আলোচনার জন্য নিজেদের শর্তজুড়ে দিয়েছে। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবরুদ্ধ করা সম্পদ মুক্ত করা, ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কর্তৃত্বের স্বীকৃতি দেওয়া।

সূত্র: উইয়ন নিউজ