বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এখন আর শুধু পরিবেশগত উদ্বেগের বিষয় নয়, বরং এটি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা বজায় রাখার মূল প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজেট সহায়তা বাস্তবায়নে সম্ভাবনা
তিনি বলেন, “যদি বাজেটে প্রদত্ত সহায়তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭,০০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।” বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপে অনুষ্ঠিত “জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রণোদনা: টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের জন্য একটি প্রতিশ্রুতিশীল ভিত্তি” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা সরকারকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ঘোষিত কর ও শুল্ক প্রণোদনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং এর সুবিধা সর্বাধিক করার জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানান।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশের শফিকুল আলম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ২.৩ শতাংশ, যা বিশ্বব্যাপী গড় ৩৪ শতাংশের তুলনায় অনেক কম, অন্যদিকে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ক্রমাগত বাড়ছে।
সুপারিশ
অনুষ্ঠানের বক্তারা বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, দীর্ঘমেয়াদী নীতি স্থিতিশীলতা, গ্রিড আধুনিকীকরণ এবং জ্বালানি সঞ্চয় প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ের ব্যবহারকারীদের জন্য প্রণোদনা সুবিধা আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জানান।



