বিজ্ঞানীরা মালয়েশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলে এক নতুন ও বিস্ময়কর বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প উন্মোচন করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার ও সাউথইস্ট এশিয়া রেইনফরেস্ট রিসার্চ পার্টনারশিপের গবেষকেরা মালয়েশিয়ার সাবাহ অঞ্চলের কাবেলি–সেপিলক ফরেস্ট রিজার্ভের ৩৮টি ডিপ্টেরোকার্প প্রজাতির গাছের ওপর পরীক্ষা চালান। এই গাছগুলো ৭ দশমিক ৭ মিটার থেকে শুরু করে ৭১ মিটারের বেশি লম্বা ছিল। সবচেয়ে বড় গাছটির উচ্চতা যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাচু অব লিবার্টির প্রায় তিন–চতুর্থাংশ।
গাছের শারীরিক কৌশল
গবেষকেরা দেখেছেন, লম্বা গাছগুলো তাদের কাণ্ডের নিচের অংশে পানির নালি বা জাইলেম ভেসেল তুলনামূলক বেশি চওড়া বা মোটা করে তৈরি করে। চওড়া নালির কারণে ঘর্ষণ কমে যায় এবং পানি সহজে ও দ্রুত ওপরে উঠে যায়। একই সঙ্গে গাছের মগডালের পাতাগুলো কম পানির চাপে কাজ করার ক্ষমতা অর্জন করে। পাতাগুলোর এই বিশেষ মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে কম পানিতেও কোষ নষ্ট হয় না।
খরা পরীক্ষায় সাফল্য
বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তীব্র এল নিনো খরার সময়ে। খরায় রেইনফরেস্টের পানির স্তর অনেক নেমে গিয়েছিল। অবাক করার বিষয় হলো, খরা সত্ত্বেও বড় গাছগুলোর বৃদ্ধির গতি একটুও কমেনি। ছোট গাছগুলোর মতোই বড় গাছগুলো স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠেছে। গবেষকেরা নিশ্চিত করেছেন, ডিপ্টেরোকার্প পরিবারের গাছগুলোর খরা সহনশীলতার সঙ্গে তাদের উচ্চতার কোনো সম্পর্ক নেই।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
এই আবিষ্কার জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার রেইনফরেস্টগুলোয় ডিপ্টেরোকার্প প্রজাতির গাছ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই বিশাল গাছগুলো বিপুল পরিমাণ কার্বন ধরে রাখে। নতুন গবেষণাটি এই পুরোনো বনগুলোকে কার্বন সিংক বা কার্বন শোষক হিসেবে টিকিয়ে রাখার দাবি জোরদার করল। গাছগুলো বিজ্ঞানীদের ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। এরা পরিবেশের চাপের সঙ্গে নিজেদের ভেতরের গঠন বদলে নিতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া



